নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কখনও নিম্নচাপ। কখনও ঘূর্ণাবর্ত। কখনও বর্ষার বৃষ্টি। সবমিলিয়ে জুলাই মাসের কলকাতা বৃষ্টিতে একেবারে জলময় হয়েই রইল। জমা জলের ফলে চোখের জলে নাকের জলে মানুষ। তবে প্রবল বৃষ্টিপাতের পরও গলদঘর্ম দশা কাটেনি বলে অভিযোগ থেকেই গেল। এসবের মাঝে জানা গিয়েছে, বৃষ্টিপাত রেকর্ড তৈরি করে ফেলেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে কলকাতা শহরে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬৭৫ মিলিমিটার। নথি অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ বর্ষণ হয়েছে।
২০১৫ সালের জুলাই মাসে ৬৭৪.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল কলকাতায়। আর চলতি বছর জুলাইয়ে বৃষ্টির পরিমাণ ৬৭৬.২ মিলিমিটার। ২০১৭ সালে ৬২১ মিলিমিটার হয়েছিল। কিন্তু গত ১৫ বছরে বৃষ্টিপাতের এই নজির কলকাতায় অন্তত নেই। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর পয়লা জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতায় ৯১০.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি। কলকাতার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলাও পিছিয়ে নেই। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়ায় প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। তুলনায় হুগলিতে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে গত দু’মাসে। এই দু’মাসে গোটা রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণের দিক থেকে কলকাতা চতুর্থ স্থানে আছে। কলকাতার আগে আছে বাঁকুড়া, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি। হাওয়া দপ্তরের নথিতে আরও একটি তথ্য আছে কলকাতা নিয়ে।
শিয়ালদহ স্টেশনে নেমে বাড়ি ফেরার পথে এক নিত্যযাত্রী বলেন, ‘এ মাসে একটা দিনও ছাতা ছাড়া কাটাতে পারিনি। প্রায় প্রতিদিনই ভিজেছি। আর জ্বল-সর্দি তো লেগেই আছে। কবে যে কমবে কে জানে!’ জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহেই কলকাতায় বৃষ্টির পরিমাণ ২৬০.৭ মিলিমিটার। এই পরিমাণ বর্ষণ স্বাভাবিকের চেয়ে ১৯০ শতাংশ বেশি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন, ‘পুরনো নথি ঘেঁটে পাওয়া যাচ্ছে বহু বছর আগে কলকাতায় ৭০০-৮০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার ইতিহাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে নির্দিষ্টভাবে কত পরিমাণ হয়েছিল তা জানা যায়নি।’
এদিকে নজর রাখতে হবে হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দিকেও। এই দুই জেলাতেই সপ্তাহান্তে যথাক্রমে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫৯ ও ২৩৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতা ও শহরতলিতে আপাতত তেমন বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ নিম্নচাপ কিংবা মৌসুমি অক্ষরেখা এখন ধীরে ধীরে উত্তরবঙ্গের দিকে সরে যাচ্ছে। আর নিম্নচাপ হওয়ার সম্ভাবনাও এখন নেই। তাই রেকর্ড সৃষ্টি করে আপাতত শহরে বৃষ্টির প্রকোপ কমবে বলে আশা করা যায়।