নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মহেশতলায় রবীন্দ্রনগর থানা এলাকায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। রাজ্য পুলিসের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে কলকাতা পুলিসের ডেপুটি কমিশনার (বন্দর) হরিকৃষ্ণ পাই ও তাঁর বাহিনী। সে সময় তাঁদের লক্ষ করে উড়ে আসে আধলা ইট। পুলিসকর্তার মাথায় দু’টি ইট উড়ে এসে আঘাত করে। পুলিসের ভারী ও শক্ত হেলমেট পর্যন্ত ইটের ঘায়ে যায় ভেঙে। মাথা ফাটে ডিসি’র। আহত হন এক মহিলা কনস্টেবল এবং তিন পুলিসকর্মী।
আইনশৃঙ্খলা সামলাতে গিয়ে ইটের আঘাতে হেলমেট ভাঙার তদন্ত শুরু করে লালবাজারের যুগ্ম কমিশনার (সদর) মিরাজ খালিদের দপ্তর। তদন্ত শেষে বর্তমানে ব্যবহৃত হেলমেট বদলের সিদ্ধান্ত নেন কলকাতা পুলিসের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এখন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে গেলে পুলিস হাতে পাবে বিশেষ ফাইবার রিইনফোর্সড প্লাস্টিক (এফআরপি) হেলমেট। লালবাজার সূত্রে খবর, এই এফআরপি হেলমেট পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। ওজন অপেক্ষাকৃত হালকা। আগের হেলমেটের তুলনায় পোক্ত। কংক্রিটের ব্লক দিয়ে আঘাত করলেও এই শিরোস্ত্রাণ সে আঘাত সহ্য করে নিতে সক্ষম। এতটাই পোক্ত এগুলি।
কলকাতা পুলিসের মর্ডানাইজেশন দপ্তরের আধিকারিকদের উদ্যোগে বিশেষ এফআরপি হেলমেট তৈরি হচ্ছে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত পলি কার্বোনেট দিয়ে নয়া হেলমেটগুলি তৈরি। প্রাথমিকভাবে কলকাতা পুলিসের বাহিনীকে সবুজ রঙের হেলমেট দেওয়া হতো। কিন্তু আদতে গ্রাউন্ড-অ্যাকশনে সেগুলি ব্যবহার করতেন না উর্দিধারীরা। কারণ অত্যধিক ভারী। সে জন্যই ইদানীং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে ক্রিকেট খেলার হেলমেট পরতে দেখা যায় পুলিসকে। মাথায় হেলমেটের ভার কমাতে ও সুরক্ষার স্বার্থে এবার থেকে সবুজ এফআরপি হেলমেটই পরবেন উর্দিধারীরা।
ল্যাবে হেলমেটের সহ্যশক্তি পরীক্ষার পর আশ্বস্ত হয়েছেন লালবাজারের কর্তারা। তারপর প্রাথমিকভাবে ৪০০ সবুজ হেলমেটের বরাত দেওয়া হয়েছে। আরও ১০০ এফআরপি নীল রঙের হেলমেটও অর্ডার দেওয়া হয়েছে। সেগুলি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফকে দেওয়া হবে।
রবীন্দ্রনগরের অশান্তির ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বাহিনীর জন্য একটি এসওপি জারি করেছিলেন লালবাজার প্রধান মনোজ কুমার ভার্মা। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলার ডিউটিতে যাওয়া সিনিয়র অফিসার থেকে নিচুতলার সমস্ত কর্মীর হেলমেট পরিধান বাধ্যতামূলক। মাথা, কান, মুখ বাঁচাতে এর প্রয়োজন। সে কারণে নয়া হেলমেটের স্ট্র্যাপ যাতে খুলে না যায় তা নিশ্চিত করা হয়েছে বারবার পরীক্ষা করে। কানেও আলাদা স্পঞ্জের প্যাড বসানো হয়েছে।