সংবাদদাতা, বনগাঁ: পুলিশকর্মীকে মারধরের অভিযোগে বনগাঁর এক বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত বিজেপি নেতার নাম গোবিন্দ ভট্টাচার্য। তিনি বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বনগাঁ থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে। মারধরে গুরুতর জখম হন পুলিশকর্মী কৌশিক দেবনাথ। কলকাতা পুলিশে কর্মরত কৌশিকবাবু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত যুবকের জামাইবাবু বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার রাতে কৌশিকবাবু যখন বাড়ি ফিরছিলেন, তখন হাসপাতাল কালীবাড়ি এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে গোবিন্দ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন গালাগালি করেন। এরপর কৌশিককে সবাই মিলে মারধর করেন বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা তাঁকে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। কোনও মতে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে বাঁচেন ওই পুলিশকর্মী। তাঁর জামাইবাবু অরিন্দম চক্রবর্তীর অভিযোগ, ‘পুরনো শত্রুতা থেকেই আমার শ্যালককে মারধর করেছে অভিযুক্ত। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।’
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধৃত বিজেপি নেতা। আদালতে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে আমাকে দমানোর জন্য মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আমি কোনও মারামারির ঘটনায় যুক্ত নই।’ এ বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘গোবিন্দ আমাদের একনিষ্ঠ কর্মী। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কাজকর্ম শুরু করেছিল। তৃণমূল ভয় পেয়ে ওকে আটকাতে মিথ্যা অভিযোগ করছে।’ বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। অন্যায় করলে শাস্তি পেতেই হবে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।’ -নিজস্ব চিত্র