Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রেলযাত্রীর হার ছিনতাই, আকড়ায় গ্রেফতার কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল

রেলযাত্রীর সোনার হার ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতার খোদ কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল! ধৃতের নাম মহম্মদ মোস্তাকিন মল্লিক।

রেলযাত্রীর হার ছিনতাই, আকড়ায় গ্রেফতার কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেলযাত্রীর সোনার হার ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতার খোদ কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল! ধৃতের নাম মহম্মদ মোস্তাকিন মল্লিক। বালিগঞ্জ জিআরপি থানা মোস্তাকিনকে আকড়া স্টেশন থেকে সোনার হার ছিনতাইয়ের সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করে। কিন্তু ট্রেনের কামরায় ছিনতাইয়ের সময় পুলিশ কীভাবে এক পুলিশকর্মীকে পাকড়াও করল? জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে অভিযোগ আসছিল, সন্তোষপুর ও আকড়া স্টেশনে ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। তাই সাদা পোশাকে ওঁত পেতে ছিলেন বালিগঞ্জ জিআরপির পুলিশকর্মীরা। বিভিন্ন কামরায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। তা করতে গিয়ে এক যাত্রীর গলা থেকে হার ছিনিয়ে নেওয়ার পরপরই ছিনতাইকারীকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়। তবে তাঁরা ভাবতেও পারেননি, খোদ কলকাতা পুলিশের এক কনস্টেবল এই কাণ্ড করে ধরা পড়বেন! 

Advertisement

স্বভাবতই বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তারা। তাই সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ের ঘটনা হলেও সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁরা বিষয়টি চেপে গিয়েছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, কাগজেকলমে নিউ আলিপুর থানায় পোস্টিং ছিলেন মোস্তাকিন। তবে বর্তমানে তাঁকে কালীঘাট থানায় রিজার্ভে রাখা হয়েছিল। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি ডিউটিতে আসছিলেন না। খোঁজখবর করতে গিয়ে লালবাজার জানতে পেরে, ওই কনস্টেবল ছিনতাইয়ের অভিযোগে জিআরপির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন! মুখরক্ষায় তড়িঘড়ি কলকাতা পুলিশের ডিসি (সাউথ) প্রিয়ব্রত রায় অভিযুক্তকে সাসপেন্ড করেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার। তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ততে তাঁর সরকারি পরিচয়পত্র, উর্দি সহ পুলিশের সরঞ্জাম জমা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জুলাই নিউ আলিপুর থানার কয়েকজন পুলিশকর্মী তোলা না পেয়ে ৩০-৩৫টি লরিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরদিন সকালে ক্ষিপ্ত লরিচালকরা নিউ আলিপুর মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালে বিষয়টি সামনে আসে। বাধ্য হয়ে লালবাজার তখন ওই থানার চার এসআই-কে সাসপেন্ড করেছিল। সম্প্রতি বিভাগীয় তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাদের আর্থিক জরিমানা করে রেহাই দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ‘কুকীর্তি’র উদাহরণ আরও আছে! ২০১৯ সালের জুলাইয়ে শিয়ালদহের ছবিঘর সিনেমা হলের সামনে নদীয়ার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোর করে গাড়িতে তুলে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় গ্রেফতার গোয়েন্দা বিভাগের এএসআই আশিস চন্দের চাকরিই চলে গিয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে তালতলা থানা এলাকায় ব্যবসায়ীর দেড় কোটি টাকা ডাকাতির ঘটনায়ও এক কনস্টেবল গ্রেফতার হয়েছিলেন। এ বছরের  মে মাসে এন্টালিতে ভরদুপুরে ডাকাতির ঘটনায় এসটিএফের কনস্টেবল মিন্টু সরকারকে গ্রেফতার করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ