Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেদার বাজিতে ‘বিষাক্ত’ শহর

নিউ ইয়ারের পার্টি করতে গিয়ে পরিবেশের তোয়াক্কাই করল না শহর। প্রায় মাঝরাত পর্যন্ত কলকাতা ও শহরতলিতে দেদার ফাটল শব্দবাজি।

দেদার বাজিতে ‘বিষাক্ত’ শহর
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও চুঁচুড়া: নিউ ইয়ারের পার্টি করতে গিয়ে পরিবেশের তোয়াক্কাই করল না শহর। প্রায় মাঝরাত পর্যন্ত কলকাতা ও শহরতলিতে দেদার ফাটল শব্দবাজি। সঙ্গে রীতিমতো সঙ্গত দিল তারস্বরে বাজতে থাকা মাইক।

Advertisement

গত কয়েকদিন ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছিল কলকাতার একিউআই (বাতাসে দূষণের সূচক)। এক ধাক্কায় তা গেল বেড়ে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ইংরেজি নতুন বছরে রাত ১১টা ৫৫ থেকে সাড়ে বারোটা পর্যন্ত শুধুমাত্র সবুজ বাজি পোড়ানো যাবে। কিন্তু কলকাতা ও শহরতলি কোনও নিয়মই মানেনি। ১২ ডিসেম্বরের পর কলকাতার গড় একিউআই ২৫০ পার করেনি। ৩১ ডিসেম্বর কমে হয়েছিল ১২৩। তবে বছরের প্রথমদিনই একিউআই এক লাফে বেড়ে হয়ে গেল ২৬৩। মানব শরীরের পক্ষে এই দূষণ ভয়াবহ।
পরিবেশবিদদের বক্তব্য, ‘শীত পড়েছে। তার উপর রাতে এন্তার বাজি পোড়ানো হয়েছে। ফলে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা নীচে এসে জমা হয়েছে।’ পরিবেশকর্মী নব দত্ত বলেন, ‘প্রশাসন মুখ ফিরিয়ে নিলে এমনটাই ঘটে। রাত দেড়টা পর্যন্ত দেদার বাজি ফেটেছে। ডিজের দাপট এবছর ফের বেড়েছে।’ একই ছবি হুগলিতেও। 
পরিবেশ কর্মীদের অভিযোগ, ডানকুনি, উত্তরপাড়া, রিষড়া, শ্রীরামপুর, চন্দননগর সহ বিভিন্ন এলাকায় সারারাত দেদার বাজি ফেটেছে। সঙ্গে ডিজের তীব্র আওয়াজ। দিল্লি রোড ও দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন একাধিক রেস্তরাঁ ও ধাবার বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। বেশ কিছু হোটেল-রেস্তরাঁ কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করে ‘বিপুল বাজি, ডিজে’ বলে সমাজমাধ্যমে বিজ্ঞাপন পর্যন্ত দেয়। হুগলি জেলা বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চ এর বিরুদ্ধে হুগলি জেলা পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গৌতম সরকারের বক্তব্য, ‘আবেদন জানিয়েছিলাম, নববর্ষে বাজি ও ডিজে বন্ধ করার। অনেকেই অনুরোধ কানে তোলেননি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ