নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাজার নিষেধাজ্ঞা, কড়াকড়ি সত্ত্বেও কালীপুজো, দীপাবলিতে দেদার আতশবাজি পুড়েছে। কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলি এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত বাজি পোড়ানোর ফলে বিষিয়ে উঠেছিল বাতাস। বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা ও ক্ষতিকর কণার পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছিল বিপজ্জনক হারে। সেই পরিস্থিতি কাটতে না কাটতেই এসে পড়ে ছট পুজো। সেই উপলক্ষ্যেও কিছু এলাকায় দেদার বাজি ফেটেছে। ফলস্বরূপ বায়ুদূষণ হয়েছিল মাত্রাছাড়া। এমনকি, দীপাবলির পর দিন কলকাতার ময়দান চত্বরের বাতাস হয়ে উঠেছিল শ্বাস নেওয়ার অনুপযুক্ত। অবশেষে ‘বিষমুক্ত’ হল কলকাতার বাতাস! সৌজন্যে ঘূর্ণিঝড় ‘মন-থা’! বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড়ের খুব বেশি প্রভাব বাংলায় না পড়লেও বুধবার সকাল থেকে মেঘলা আকাশ, ঝোড়ো হাওয়া ও তুমুল বৃষ্টির সাক্ষী থেকেছে কলকাতা। আর তাতেই ‘বিষমুক্ত’ হয়েছে কলকাতার বাতাস। পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, মানুষের সৃষ্টি করা দূষণ প্রকৃতি নিজেই ধুয়েমুছে দিল! এদিন বাতাসে দূষণের সূচক (একিউআই) নেমে আসে ৫০-এর নীচে।
চলতি মাসের ২১ তারিখ ছিল কালীপুজো। দেদার বাজি পুড়েছে সেদিন রাতে। পরের দিন অর্থাত্ ২২ তারিখেও আতশবাজির লাগামছাড়া দাপট দেখা গিয়েছে শহরের কিছু অঞ্চলে। ফলে এই দু’দিন কলকাতার বাতাসে দূষণের সূচক ছিল যথাক্রমে ১৭৪ ও ১৪৬। ২৫ তারিখ পর্যন্ত ১০০-র উপরেই ছিল একিউআই, যা শ্বাস নেওয়ার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়। ২৬ ও ২৮ তারিখ ১০০-র নীচে নেমেছিল সূচক। প্রসঙ্গত, পরিবেশবিদরা আগেই অনুমান করেছিলেন, দূষণের মাত্রা যেখানে পৌঁছে গিয়েছে, সেখান থেকে চটজলদি নিস্তার দিতে পারে একমাত্র বৃষ্টি। তেমনটাই ঘটল বুধবার। বুধবার বিকেল ৪টে নাগাদ কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার বাতাসে দূষণের গড় সূচক ৪৬। এদিন বৃষ্টির পর শহরের মধ্যে বাতাসের মান সবচেয়ে ভালো ছিল বিধাননগর এলাকায়। সেখানে একিউআই ছিল ৩৪। তারপরেই ফোর্ট উইলিয়াম ও রবীন্দ্র সরোবর চত্বর (একিউআই ৩৭)। ৪৭ সূচক ছিল ভিক্টোরিয়া ও বালিগঞ্জে। এদিন সর্বাধিক দূষণ সূচক ছিল যাদবপুর এলাকায় (একিউআই ৬২)।
পরিবেশবিদ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলছিলেন, ‘বাতাসের মধ্যে পার্টিকুলেট ম্যাটারগুলো ভেসে বেড়ায়, যা আমরা চোখে দেখতে পাই না। বৃষ্টি হলে বাতাসে ভাসমান কার্বন কণা ও ধূলিকণা মাটিতে নেমে
আসে। সেই কারণে একিউআই এক ধাক্কায় অনেকটা নেমে যায়। ঝোড়ো হাওয়া, তার সঙ্গে ভালোরকম বৃষ্টিপাতের ফলে আমাদের শহরে বাতাসের গুণমান এখন অনেকটাই ভালো।’
অর্থাৎ এক্ষেত্রে নিম্নচাপ কার্যত শাপে বর হয়ে দেখা দিয়েছে কলকাতাবাসীর কাছে। নিম্নচাপ পুরোপুরি সরে গেলে শীতের আগমন ঘটবে। তখন উত্তুরে হাওয়ার সঙ্গে বাতাসে ধূলিকণার উপস্থিতিও বাড়বে। তবে পরিবেশকর্মীদের মতে, এই মুহূর্তে একিউআই অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।