Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতা পুরসভা: কত অবৈধ নির্মাণ ‘রেগুলারাইজড’ হয়েছে, অভ্যন্তরীণ অডিটের নির্দেশ

জরিমানার বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণ বৈধকরণের (রেগুলারাইজড) ফাইল নিয়ে অভ্যন্তরীণ অডিটের নির্দেশ দিলেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে।

কলকাতা পুরসভা: কত অবৈধ নির্মাণ ‘রেগুলারাইজড’ হয়েছে, অভ্যন্তরীণ অডিটের নির্দেশ
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জরিমানার বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণ বৈধকরণের (রেগুলারাইজড) ফাইল নিয়ে অভ্যন্তরীণ অডিটের নির্দেশ দিলেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে। সূত্রের খবর, পুরসভার বিল্ডিং বিভাগকে এই অডিট করতে বলা হয়েছে। গত কয়েক বছরে শহরে যত অবৈধ নির্মাণ ‘রেগুলারাইজড’ হয়েছে, তার অডিট হবে। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে চলছে ‘বুলডোজার-ডোজ’। এমন এক সময়ে বিল্ডিং রেগুলারাইজেশনের পুরানো ফাইলপত্র খতিয়ে দেখার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে পুরসভায়। যদিও বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের একাংশের মতে, এমন অডিট নিয়মিতই হয়। নতুন কিছু নয়। 

Advertisement

নির্দিষ্ট জরিমানার বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণকে বৈধতা দেওয়ার নিয়ম কলকাতা পুরসভায় চালু হয় ২০১৫ সালে। ‘কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (রেগুলারাইজেশন অব বিল্ডিং) রেগুলেশনস, ২০১৫’ শীর্ষক সংশোধনীর মাধ্যমে এই আইনি সংস্থান আনা হয়। সেখানে উল্লেখ করা রয়েছে, নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যানের ‘মাইনর ডেভিয়েশন’ অর্থাৎ ছোটখাটো বিচ্যুতি ঘটলে এই নিয়মে তাকে ‘রেগুলারাইজেশন’ বা বৈধ করা যাবে। সেক্ষেত্রে জরিমানা বা পেনাল্টির সংস্থান রয়েছে। সেই আইন মেনে গত কয়েক বছরে এই প্রক্রিয়া অনেকটা গতি পায়। ভূরি ভূরি বেআইনি নির্মাণ এভাবে বৈধ হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া কতটা ‘স্বচ্ছ’ ছিল, সেটাই খতিয়ে দেখতে চায় বর্তমান প্রশাসন। সূত্রের খবর, পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে মূলত সেই সমস্ত ফাইল অডিটের নির্দেশ দিয়েছেন। পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এক্ষেত্রে অডিট দু’রকমের হয়। টেকনিক্যাল এবং ফিনান্সিয়াল। টেকনিক্যাল অডিটের ক্ষেত্রে রেগুলারাইজেশনের নিয়মকানুন মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। এক আধিকারিক বলেন, ‘আইনে অবৈধ নির্মাণের ১০ রকমের ত্রুটি-বিচ্যুতির উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন ধরনের বিচ্যুতি হয়েছে, সেটা যাচাই করা হয়েছে হয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা কিংবা আর্থিক লেনদেন ইত্যাদ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা হয়। আবার ফিনান্সিয়াল অডিটের ক্ষেত্রে দেখা হয়, সংশ্লিষ্ট বেআইনি নির্মাণকে বৈধতা দিতে কত টাকা জরিমানা নেওয়া হয়েছে, যত পরিমাণ ছাড় দেওয়ার কথা ছিল, তার থেকে বেশি পরিমাণ ছাড় দেওয়া হয়েছে কি না, জরিমানা কম নিয়ে সরকারি কোষাগরের ক্ষতি করে সংশ্লিষ্ট অবৈধ নির্মাণ বৈধতা পেয়েছে কি না ইত্যাদি।’ 
পুরসভা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে এই অডিট শুরু হয়েছে। এই কাজে পুরসভার নির্দিষ্ট অফিসার রয়েছেন। তাঁর দপ্তর কাজ শুরু করেছে। প্রয়োজনে ‘অন-স্পট’ ভিজিট করেও যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখার নির্দেশ রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ