Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এক বুথের টাকা অন্যটিতে খরচে ‘ছাড়পত্র’ চাইছেন কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলাররা, ‘আমাদের পাড়া’ কর্মসূচিতে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয়ে নিয়ম বদলের দাবি

কোথাও বাড়তি অর্থের প্রয়োজন। কোথাও আবার বুথভিত্তিক বরাদ্দ হওয়া টাকা খরচই হবে না। কারণ, সেই বুথে নাগরিকদের সেরকম কোনও সমস্যা উঠে আসেনি

এক বুথের টাকা অন্যটিতে খরচে ‘ছাড়পত্র’ চাইছেন কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলাররা, ‘আমাদের পাড়া’ কর্মসূচিতে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয়ে নিয়ম বদলের দাবি
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোথাও বাড়তি অর্থের প্রয়োজন। কোথাও আবার বুথভিত্তিক বরাদ্দ হওয়া টাকা খরচই হবে না। কারণ, সেই বুথে নাগরিকদের সেরকম কোনও সমস্যা উঠে আসেনি। কিন্তু সেই বুথের টাকা অন্যত্র কাজে লাগানো যাবে না। সেটা নিয়ম বর্হিভূত। ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শিবিরে নাগরিকদের তরফে উঠে আসা বিভিন্ন দাবিদাওয়া পূরণ করতে গিয়ে এমনই পরিস্থিতি কলকাতার বিভিন্ন এলাকায়। নিয়মের গেরোয় বুথ বা পাড়াভিত্তিক ছোট ছোট উন্নয়নমূলক কাজগুলি কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। আবার, প্রতিশ্রুতমতো আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নাগরিকদের দাবি পূরণ না হলে বিধানসভা ভোটে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কাউন্সিলাররা। এই অবস্থায় তাঁরা চাইছেন, কলকাতার ক্ষেত্রে অন্তত বুথভিত্তিক অর্থ খরচের নিয়ম শিথিল করা হোক বা বদলানো হোক। যদিও মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের শীর্ষস্তরের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। 

Advertisement

ইতিমধ্যে কলকাতা পুরসভা এলাকায় ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির ২১৬৮টি ক্যাম্প হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর শেষ হচ্ছে এই কর্মসূচি। নাগরিকদের দাবির ভিত্তিতে ১৪ হাজার ২০০টি সমস্যা নথিভুক্ত হয়েছে। সমস্যা সামনে এসেছে তারপর। কলকাতায় বুথভিত্তিক বরাদ্দকৃত অর্থ খরচের ক্ষেত্রে জটিলতার বিষয়টি সম্প্রতি মেয়রের কাছে তুলে ধরেন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিশ্বরূপ দে। তিনি জানান, এমন অনেক বুথ আছে, যেখানে সেই অর্থে কোনও সমস্যা নথিভুক্ত হয়নি। ফলে, সেই বুথের জন্য বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকা খরচ করা যাবে না। আবার, এমন বুথও রয়েছে, যেখানে নাগরিকদের দাবিদাওয়া অনেক বেশি। তাছাড়া কলকাতার মতো শহরের ক্ষেত্রে একটি বুথের জন্য ১০ লক্ষ টাকা যথেষ্ট নয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে সিদ্ধেশ্বর চন্দ্র লেন, মধু গুপ্ত লেন, সুরেন্দ্রলাল পাইন লেন আদতে একটিই রাস্তার তিন অংশের নাম। রাস্তাটি শুরু হচ্ছে আমাহার্স্ট স্ট্রিট থেকে। শেষ হচ্ছে মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সির সামনে। সেখানে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। কিন্তু তা যথেষ্ট খরচসাপেক্ষ। এই রাস্তাটি একাধিক বুথের উপর দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট বুথগুলির প্রাপ্য সব টাকা খরচ করা আবার যাবে না। কারণ, সেক্ষেত্রে বুথের অন্যান্য সমস্যা মেটানোর টাকা থাকবে না। আবার, এই ওয়ার্ডেই ৭৯ নম্বর পার্টে কোনও সমস্যা নথিভুক্ত হয়নি। সেখানে টাকা খরচ হবে না। তাই যে বুথে টাকা খরচ হচ্ছে না, সেই টাকা অন্য বুথে প্রয়োজন অনুযায়ী খরচের প্রস্তাব তিনি দিয়েছিলেন মেয়রকে। এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘নিয়ম শিথিল বা বদল করার ক্ষমতা পুরসভা কিংবা আমার হাতে নেই। এটা প্রশাসনের শীর্ষস্তরে ঠিক হওয়া সিদ্ধান্ত। কোনও পরিবর্তন আনতে গেলে সেখান থেকেই করতে হবে।’ 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাইপাসের ধারের এক কাউন্সিলার বলেন, ‘কলকাতায় একটি ওয়ার্ডে কোথাও ৩০টি, কোথাও ৫৫টি বুথও রয়েছে। গ্রামের ক্ষেত্রে একটা বুথ মানে অনেক বড় এলাকা। সেখানে কাজ কম। কিংবা সেখানে এই টাকায় কাজ হয়ে যাবে। যা কলকাতার ক্ষত্রে প্রযোজ্য নয়। তাই বুথভিত্তিক অর্থ খরচের ব্যাপারে নিয়ম বদলানোর প্রয়োজন। না হলে পাড়ায় পাড়ায় জবাব দিতে হবে ভোটের আগে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ