Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতা পুরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার অবশেষে গ্রেফতার, ৫ কোটির বেশি আয় বহির্ভূত সম্পত্তি

পাঁচ বছরে আয় করেছেন ৫৬ লক্ষ টাকা। আর এই সময়ে সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা। এফডি থেকে গোল্ড বিমা সর্বত্রই বিনিয়োগ করেছেন।

কলকাতা পুরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার অবশেষে গ্রেফতার, ৫ কোটির বেশি আয় বহির্ভূত সম্পত্তি
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাঁচ বছরে আয় করেছেন ৫৬ লক্ষ টাকা। আর এই সময়ে সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা। এফডি থেকে গোল্ড বিমা সর্বত্রই বিনিয়োগ করেছেন। শহরের বুকে ছ’টি ফ্ল্যাট কিনেছেন। এমনকি, স্ত্রীর নামে রিয়েল এস্টেট কোম্পানি পর্যন্ত খুলেছেন। কলকাতা পুরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পার্থ চোংদারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি পরিমাণ বৃদ্ধি দেখে তাজ্জব আদালত। দু’বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত চালানোর পর তাঁকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করেছে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা। শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালত তাঁকে পুলিশি হেপাজতে পাঠিয়েছে।

Advertisement

আদালত সূত্রে খবর, কলকাতা পুরসভায় ১৯৯৭ সালে সড়ক ও মেকানিক্যালের অ্যাসফাল্টম বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজে যোগ দেন পার্থবাবু। সেখানে দীর্ঘদিন তিনি কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, এই বিভাগের বিভিন্ন কেনাকাটা ও কাজ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২০ সালে এই দুর্নীতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তদন্তে পার্থবাবুর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার মেয়র জানিয়েছেন, এরপরই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। পাশাপাশি ভিজিল্যান্স তদন্ত শুরু হয়। সাসপেনশন ওঠার পর তিনি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে কাজে যোগ দেন। যদিও বিভাগীয় তদন্ত চলতে থাকে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সরাসরি প্রমাণ মেলায় পুরসভার তরফে বিষয়টি জানানো হয় দুর্নীতি দমন শাখাকে। তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের বাস্তবতা মেলায় ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে কেস রুজু হয়। তল্লাশি চালানো হয় তাঁর বাড়ি , অফিস সহ বিভিন্ন জায়গায়। 
আদালতে জমা দেওয়া নথি থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল— এই পাঁচ বছরে তাঁর আয়ের পরিমাণ খতিয়ে দেখা হয়েছে।  তাঁর বেতনের নথি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, এই সময়কালে তিনি ৫৬ লক্ষ টাকা বেতন পেয়েছেন। অথচ আয়কর রিটার্নের কপি থেকে জানা যাচ্ছে, তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ এই সময়ে কয়েকশো গুণ বেড়েছে। সব মিলিয়ে ৫ কোটি  ৮৬ টাকার আয় বহির্ভূত সম্পত্তি মিলেছে বলে খবর। আদালতে শুক্রবার সরকারি আইনজীবী বলেন, এফডি, গোল্ড বিমা এবং শেয়ারে এই পাঁচ বছরে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছেন পার্থ। নিউটাউনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ২৬ লক্ষ টাকার এফডি রয়েছে তাঁর। স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি সহ আত্মীয়দের নামে একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। সেখানে নগদে ১০ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা করেছেন। তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির ছ’টি অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে দু’কোটি টাকারও বেশি। এমনকি, স্ত্রীর নামে রিয়েল এস্টেট কোম্পানি খুলে সেখানে বিপুল টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ।
আদালত সূত্রে খবর, কলকাতায় ছ’টি ফ্ল্যাট ছাড়াও বোলপুরে ৩৬ লক্ষ টাকা দামের একটি বাংলো রয়েছে। যা কেনা হয়েছে এই পাঁচ বছরে। তাঁর লকার থেকে ৭৩৪.৮৫ গ্রাম সোনার অলংকার উদ্ধার হয়েছে। পাঁচ বছরে তিনি একাধিকবার বিদেশে গিয়েছেন পরিবার নিয়ে। কাদের কাছ থেকে তিনি কীভাবে টাকা নিয়েছেন, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ