নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৪০ কোটির বেশি টাকার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিতে নবরূপে সাজছে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এখানে বসবে নতুন আধুনিক সিটি স্ক্যান মেশিন। আসছে ক্যান্সার চিকিৎসায় অত্যন্ত জরুরি আরও একটি হাইটেক লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর যন্ত্র বা লাইন্যাক মেশিন। আজকের দিনে নানা লাইফস্টাইল অসুখে জেরবার বাঙালির হাড়ের রোগ নির্ণয়ে অন্যতম অপরিহার্য যন্ত্র বোন মিনারেল ডেনসিটি মেজারিং মেশিনও (বিএমডি) পাচ্ছে মেডিকেল।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী শাখা ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল সার্ভিস কর্পোরেশন (ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল সার্ভিস কর্পোরেশন) গোটা বিষয়টির দায়িত্বে রয়েছে। সিটি স্ক্যান ও লাইন্যাকের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। বোন মিনারেল ডেনসিটি মেজারিং মেশিনের টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। সিটি স্ক্যান মেশিনটি বসবে সুপার অফিসের অদূরে অবস্থিত নবনির্মিত সাততলা ভবনের একতলায়। অন্যদিকে নতুন লাইন্যাকটি বসবে মেডিকেল কলেজের ক্যান্সার হাসপাতালের বাঙ্কারে।
হাসপাতালের এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, এই পর্বে মেডিকেল ছাড়াও বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ এবং কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ—এই তিনটি আরসিসি বা রিজিওনাল ক্যান্সার সেন্টার এবং পিজি ও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে প্রস্তাবিত দুটি বড় ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্রেও বসছে লাইন্যাক মেশিন। এদিকে বোন মিনারেল ডেনসিটি মেজারিং মেশিনটি বসার কথা সুপার স্পেশালিটি ভবন বা এসএসবি বাড়িতে।
প্রসঙ্গত, মেডিকেলে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে বহুদিন ধরেই চলছে সিটি স্ক্যান পরিষেবা। নতুন সিটি স্ক্যান মেশিনটি চলবে সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগে। ক্যান্সার চিকিৎসার অপরিহার্য একটি লাইন্যাক মেশিন মেডিকেল কলেজে ইতিমধ্যেই আছে। আরও একটি মেশিন বসবে এখানে। বিএমডি মেশিন রয়েছে পিজি হাসপাতালে। এইবার পাচ্ছে মেডিকেল কলেজও।
মেডিকেল সূত্রের খবর, নতুন লাইন্যাক মেশিনটির দাম প্রায় ৩০ কোটি টাকা। অন্যদিকে পূর্ণ সরকারি উদ্যোগে হতে চলা সিটি স্ক্যান মেশিনটির দাম কমবেশি ৭ কোটি টাকা। বিএমডি মেশিনটির দাম আনুমানিক ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। মেডিকেল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এছাড়া সার্জারি সহ বেশ কিছু বিভাগের অত্যন্ত জরুরি যন্ত্রপাতির সেটও কিনছে হাসপাতাল। যেমন থোরাকোস্কোপ, এন্ডোস্কোপ, ওটি লাইট ইত্যাদি। এই খাতেও লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছে রাজ্য। এ বিষয়ে মেডিক্যালের অধ্যক্ষ ডাঃ ইন্দ্রনাল বিশ্বাস বলেন, আশা করছি টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে এবং যন্ত্রগুলি শীঘ্রই জনস্বার্থে কাজে লাগানো যাবে। প্রতীকী ছবি