রহিম নবি: তখন রেডিও কমেন্ট্রির যুগ। ঘরোয়া লিগে বড় দলের ম্যাচ থাকলেই তা চালিয়ে দেওয়া ছিল অভ্যাস। কখনও কখনও ফুটবলের টানে কলকাতায় আসতাম। প্রথম ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা দিব্যি মনে আছে। মোহন বাগান মাঠে তিল ধারণের জায়গা নেই। কোনওরকমে বসে আছি। শিশির ঘোষ তখন আমাদের কাছে হিরো। ওই আবেগই আমায় ফুটবলার করেছে। ভাবতে অবাক লাগে, এখন ঘেরা মাঠে লিগের খেলাই হয় না। তাই এই প্রজন্ম ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
১৯৯৮ সালে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিংয়ের হয়ে লিগে আমার অভিষেক। উত্তেজনায় খেলার আগের রাতে ঘুম আসেনি। কয়েকটা ম্যাচই খেলতে পেরেছিলাম সেবার। কারণ তারপরই চলে যাই টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমিতে। ফিরি ২০০২ সালে। সেবার আমার ক্লাব মহমেডান স্পোর্টিং। হাবিব স্যার আমায় স্ট্রাইকার হিসেবে খেলালেন। দীপু দা’র (দীপেন্দু বিশ্বাস) পাশে সেবার দারুণ পারফরম্যান্স মেলে ধরি। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ইস্ট বেঙ্গল ও মোহন বাগানে খেলেছি সুনামের সঙ্গে। ফুটবলার হিসেবে আমায় পরিচিতি দিয়েছিল ঘরোয়া লিগ। আমি একা নয়, এই আসর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ফুটবলার উঠে এসেছে। আবার বলছি, ময়দানে তিন বড় ক্লাবের মাঠে খেলা ফিরলেই লিগের উন্মাদনা বাড়বে। ক্লাব কর্তা থেকে আইএফএ— প্রত্যেকেই এই বিষয় নিয়ে ভাবুন প্লিজ। লিগের আকর্ষণ বাড়াতে এটাই একমাত্র পথ। না হলে একদিন ইতিহাসে জায়গা করে নেবে কলকাতা লিগ।