Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রেম-আড্ডা, গানের সুরে মাতোয়ারা কলকাতা

রবীন্দ্র সরোবর মানেই প্রেম প্রেম গন্ধ। দশকের পর দশক কতশত ভালোবাসার সাক্ষী দক্ষিণ কলকাতার এই জায়গা।

প্রেম-আড্ডা, গানের সুরে মাতোয়ারা কলকাতা
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোহম কর, কলকাতা: রবীন্দ্র সরোবর মানেই প্রেম প্রেম গন্ধ। দশকের পর দশক কতশত ভালোবাসার সাক্ষী দক্ষিণ কলকাতার এই জায়গা। আর নজরুল মঞ্চ তো গানের ভেলায় ভাসতে শিখিয়েছে যৌবনোদ্দীপ্ত বাঙালিকে। শনিবার তেমনই উন্মাদনা তৈরি করলেন শিল্পী অনুপম রায়। অনুষ্ঠানের আয়োজক ‘বর্তমান’ সংবাদপত্র। শুধু গান নয়— আড্ডা, ভূরিভোজে চৈত্র শেষে বর্ষবরণ হয়ে উঠল রামধনুর মতো। 

Advertisement

অনুপমের গানে বারবার মিলেমিশে একাকার প্রেম ও বিরহ। চেনা শব্দ, সুরের মূর্চ্ছনা ও গায়কীতে তিনি সার্থকনামা। তাই এদিন অনুপম যখন ধরলেন ‘বাড়িয়ে দাও তোমার হাত’, ঠিক তখনই বাইরে জোর ঝগড়া। কেন হল দেরি? রাগে গাল লাল প্রেমিকার। উপায় নেই দেখে আলতো ছোঁয়ায় তার আঙুল ধরে নজরুল মঞ্চে ঢুকে পড়ল প্রেমিক। রাগ ভাঙানোর জন্য উপহার, বিজলি গ্রিল কিংবা ফ্লুরিজের খাবার। 
যাই হোক! বাতানুকূল নজরুল মঞ্চের ভিতরে তখন হাজার হাজার অনুপম। শিল্পীর কথা-সুর কণ্ঠে ধরেই গানোৎসবের উদযাপন। তাই বুদবুদের মতোই ভ্যানিশ রাগ, অভিমান। কারণ, অনুপম গাইছেন, ‘আমার দেওয়াল ঘড়ি, কাঁটায় তুমি লেগে আছ।’ আবার যাঁরা সদ্য প্রেম খুইয়ে নতুন বাংলা বছরের প্রতীক্ষায় তাঁদের জন্য স্মৃতিমেদুর শিল্পী, ‘আমার অলস জোছনাতে তুমি লেগে ছিলে।’ অনুপম রায় ব্যান্ডের গানের আগে মঞ্চে দেখা গেল সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে। ‘কিলবিল সোসাইটি’ নিয়ে নিছক আড্ডা দিতে তাঁদের আসা। এ যেন দর্শকদের কাছে প্রখর রোদে আচমকা পাওয়া এককুচি বরফ। জ্যাক অলিভলের পৃষ্ঠপোষকতায় (প্রধান) আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেখানো হল আসন্ন মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির ট্রেলার। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে ফিসফাস, অনুপম কখন আসবেন? বলতে বলতেই অন্ধকার ভেদ করে শ্বেতশুভ্র পোশাকে মঞ্চে এলেন শিল্পী। কীবোর্ডে নবারুণ, গিটারে ঋষভ, বেস গিটারে কৌস্তভ, আর ড্রামসে সন্দীপন তখন প্রস্তুত। আনন্দে আত্মহারা দর্শকরা। আর অনুপম অভিভূত। সাইকেডেলিক আলো মেখে একের পর এক হিট গানে কান ও মন ভরালেন তিনি। সঙ্গতে বৈদেহী সেনগুপ্ত, স্নেহা চক্রবর্তী, দেবস্মিতা সেনগুপ্ত। হাজির বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সাংসদ মালা রায়, বিধায়ক দেবাশিস কুমাররাও ‘বর্তমান’-এর এই উদ্যোগে শামিল। দেখা গেল অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর সমিত রায়, জর্জ টেলিগ্রাফের চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত, বি সি সেন জুয়েলার্সের কর্ণধার সুকন্যা সেন সহ আরও অনেককে। 
বিরতিতেও দর্শকদের উৎসাহের খামতি নেই। শুরু পেটপুজো। ফুড কোর্টে তিল ধারণের জায়গা নেই। কয়েক মিনিটেই উড়ে গেল চিকেন প্যাটি। তবে দুশ্চিন্তা কাটাতে রয়েছে চাওম্যান-আওধ। সেখানে লম্বা লাইন। আর তার ফাঁকে সেলফি তোলার হিড়িক। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধ্যায়ে অনুপম বেশ শান্ত। বললেন, ‘এমন কিছু গান শোনাব যা সচরাচর গাওয়া হয় না। ভায়োলিন হাতে যোগ দিলেন সৌপ্তিক। শিল্পীর কণ্ঠে ‘আমি সেই মানুষটা আর নেই’। কেউ কেউ চোখের কোণ মুছলেন। এক লহমায় হয়তো মনে পড়ল পুরনো কত কথা। তারপরই আচমকা বসন্ত এসে যাওয়া। আলস্য কাটিয়ে আবার বিরতি। অনুপম বলে গেলেন, ‘তুমি চোখ বুজো না, আমি এলাম বলে…।’ দর্শক আবার খাবার ঘরে। ওদিকে ‘গ্যাস ও ফাস্ট’ও স্টল খুলে তৈরি। তাই অন্তহীন ভুরিভোজ। এরপর সুমন ঘোষ পরিচালিত ‘পুরাতন’ ছবির প্রচারে এলেন পরিচালকসহ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। কিছুক্ষণ পরে ফের গান ধরলেন অনুপম। বাঙালিকে ভাসালেন আবেগের স্রোতে। বললেন, ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও।’ দর্শকরাও থাকলেন অতীতের স্মৃতি নিয়ে ‘বর্তমান’-এর সঙ্গে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ