নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক টুকরো কাগজ। সেই কাগজ দিয়ে প্রায় ম্যাজিক করে ফেলা যায়। তবে জানতে হবে সঠিক কৌশল। কাগজের ভাঁজে লুকিয়ে থাকে অনেক কাহিনি। সেগুলিতে দক্ষ হাতে ফুটিয়ে তোলার শিল্পের নাম হল ‘অরিগামি’। আকাদেমি অব ফাইন আর্টসের সাউথ গ্যালারিতে পাঁচদিন ধরে চলল অরিগামি’র প্রদর্শনী। যা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। কাগজশিল্প দেখতে ভিড় জমান অনেকেই। শিল্পীদের কাজ দেখে মুগ্ধ সবাই। ‘ইন্ডিয়ান অরিগামিস্ট’ নামে এক সংগঠন আয়োজন করেছিল প্রদর্শনীটির।
সাউথ গ্যালারিতে দেখা গিয়েছে, কাগজে স্রেফ ভাঁজ করে তৈরি করা হয়েছে উড়ন্ত প্রাণীদের চেহারা। লাল-সবুজ কাগজে তৈরি ডাইনোসর, পাখি, পোকা সহ নানা জিনিসপত্র। কাগজ দিয়েই তৈরি বিরাট লম্বা একখানা ড্রাগন। দেখে মুগ্ধ, অবাক শহরের শিল্পপ্রেমী মানুষ। এমন জায়গায় সুকুমার রায় থাকবেন না তা আবার হয় নাকি! তাই কাগজ দিয়েই তৈরি হয়েছে নানা ধরনের গোঁফ। মোটা গোঁফ, পাতলা গোঁফ, লম্বা গোঁফ। গোঁফের আমি-গোঁফের তুমি এই অংশটিতে লেখা সুকুমারের ‘গোঁফ চুরি’ কবিতাটি। এই অসামান্য কাজটি করেছেন শ্রীপর্ণা ও সৌমেন। কাগজ বলতে শুধু রঙিন কাগজ নয়। এর মধ্যে রয়েছে টাকাও। টাকা আসলে এক টুকরো কাগজই। সেই কাগজ দিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের জিনিস। অরিগামি শুধু দৃষ্টিসুখের জন্য নয়, কাগজ দিয়েই তৈরি করা হয়েছে ল্যাম্প শেড। তৈরি হয়েছে ফুলের মতো শিল্পবস্তু। তার মধ্যে আলো জ্বলছে। শুধুমাত্র কাগজে ভাঁজ থুলে মানুষের মুখ থেকে আস্ত পশু তৈরি করে ফেলেন শিল্পীরা। হাতের জাদুতে ঘুরে বেরায় ঘোড়া, গোরু। ছোট ছেলেকে নিয়ে এ শিল্প দেখতে এসেছিলেন সুশান্ত হাজরা। বললেন, ‘ছেলে এসব দেখে নিজে বানাবে বলে বায়না ধরেছে। ওকে এবার শেখাতে হবে।’ নিজস্ব চিত্র