নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরজুড়ে আর এক উত্সবের আগমনি সুর। উৎসবের নাম, ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরজুড়ে আর এক উত্সবের আগমনি সুর। উৎসবের নাম, ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব।
এখন কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত ভরে গিয়েছে কাটআউটে। এ বছর চলচ্চিত্র উৎসবের ট্যাগলাইন, ‘চলচ্চিত্র মেলায় বিশ্ব’। আজ, বৃহস্পতিবার বিকেলে ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে উত্সবের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ‘শোলে’ ছবির পরিচালক রমেশ সিপ্পি, সঙ্গীতশিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায়, ‘কাহানি’ ছবির পরিচালক সুজয় ঘোষ। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করবেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। উত্সব শুরুর ঘোষণা করবেন শত্রুঘ্ন সিনহা। নৃত্য পরিবেশন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের। এ বছরের উদ্বোধনী ছবি, ‘সপ্তপদী’।
বুধবার নন্দন চত্বরে গিয়ে দেখা গিয়েছে, জোরকদমে চলছে প্রস্তুতির কাজ। গোটা চত্বরই যেন হয়ে উঠছে ‘সিনেমার বাড়ি’। বড় বড় দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে শহর কলকাতার অভিজাত বাড়ির আদল। তার উপর আঁকা হচ্ছে উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেনের ‘সপ্তপদী’র সেই বিখ্যাত দৃশ্য। সেজে উঠছে একতারা মঞ্চ। সেখানে আট তারিখ থেকে প্রতিদিন বসবে সিনে আড্ডা। উত্সবের প্রতিদিনই সিনেমার সঙ্গে এই মঞ্চে সিনেমার গানের ডালি নিয়ে হাজির হবেন জনপ্রিয় শিল্পীরা। শহরের মানুষ যে এই উত্সব নিয়ে কতটা উত্সাহী তা চোখেই দেখা যায়। নন্দন, রবীন্দ্রসদন, শিশির মঞ্চের বাইরে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে আগামী এক সপ্তাহের সিনেমার তালিকা। প্রবীণ সিনেপ্রেমীরা সেই তালিকা দেখে খাতায় টুকে রাখছেন। এক বৃদ্ধের কথায়, ‘আমাদের হাতে তো আর স্মার্টফোন নেই। তাই সিনেমার নাম লিখে নিয়ে যাচ্ছি। এবার বন্ধুবান্ধব মিলে বাছাই করতে হবে, কোন ছবি দেখব। এককালে সিনে সেন্ট্রালের সদস্য হয়েছিলাম, সিনেমা দেখার জন্য। এখন তো আর সে সব হয় না। তাই বছরে এই একবার চলচ্চিত্র উত্সবই আসা ভরসা।’
নন্দন চত্বরেই তৈরি হচ্ছে সেলফি জোন। বাংলা আকাদেমির পিছনে সোমনাথ হোড়ের একটি স্থাপত্য নিয়ে এসে নতুন করে বসানো হচ্ছে। আর্ট কলেজের পড়ুয়ারা মন দিয়ে তুলির টান দিচ্ছেন। পাশে শ্রমিকরা তৈরি করছেন একাধিক মঞ্চ। তৈরি হচ্ছে ছোটোখাটো একটি হাওড়া ব্রিজ। মাঝে মধ্যেই সেখানে জ্বলছে আলো। সেলফির ছড়াছড়ি শুরু হয়ে গিয়েছে এখন থেকেই। শহর মাততে শুরু করেছে চলচ্চিত্র উৎসবে।