নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের হোটেলে আসা অতিথি সম্পর্কিত তথ্য আপলোড করার জন্য নির্ধারিত পুলিশ পোর্টালটি গত দু’মাস ধরে অচল। তথ্য আপলোড করার কাজ তাই থমকে গিয়েছে। ভারতীয় বা বিদেশি নাগরিকদের সম্পর্কে কোনও নথিই পৌঁছছে না থানাগুলির কাছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই কাজ থমকে গিয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর। তবে এই পর্বে পুলিশি গাফিলতি ও ব্যর্থতার অভিযোগও উঠেছে। এই ফাঁক গলে হোটেলে কেউ অপরাধ করে পালিয়ে গেলে বা ভিন রাজ্যের কোনও দুষ্কৃতী এখানে আশ্রয় নিয়ে গেলে, তাদের কীভাবে শনাক্ত করা যাবে, তা নিয়ে চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়ছে আধিকারিকদের। এই সমস্যা মিটিয়ে ফেলার জন্য কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে।
বেঙ্গালুরুতে ক্যাফে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতরা মধ্য কলকাতা ও বন্দর এলাকার হোটেলে লুকিয়ে ছিল। পাটনায় গ্যাংস্টার খুনে অভিযুক্ত শার্প শ্যুটাররা ঘর ভাড়া নিয়েছিল আনন্দপুর এলাকার একটি হোটেলে। একমাসের ব্যবধানে শহরে দুটি হোটেলে খুনের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন থানা এলাকায় চলা হোটেল বা গেস্ট হাউস যাতে অপরাধীদের আশ্রয়স্থল না হয় এবং কারা ঘর ভাড়া নিচ্ছে, সে তথ্য যাতে চটজলদি মেলে তার জন্য প্রতিটি হোটেল কর্তৃপক্ষকে তিনটি ফর্ম ফিল আপ করতে হয়। ভারতীয় অতিথি হলে ‘এ’ ফর্ম পুরণ করে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশি ও অন্য দেশ থেকে আসা অতিথিদের জন্য রয়েছে যথাক্রমে ‘বি’ ও ‘সি’ ফর্ম। সেখানে অতিথি ছবি সহ যাবতীয় তথ্য লিখতে হয়। এই তথ্য যাতে এক ক্লিকেই দেখা যায়, তার জন্য চালু হয় একটি পোর্টাল। অতিথি সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য এই পোর্টালে ভরাটা আবশ্যিক। স্পেশাল ব্রাঞ্চ (রেসিডেন্সিয়াল পারমিট সেকশন) এই পোর্টালটির দেখভাল করে। পোর্টালে নথি জমা পড়ার পর তা আসল কি না, যাচাই করে দেখে পুলিশ। প্রতিটি হোটেলকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য আপলোড করতে হয়। কেউ তথ্য না পাঠালে, সংশ্লিষ্ট হোটেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সূযোগ রয়েছে। হোটেল ম্যানেজারদের বক্তব্য, প্রায় দু’মাস ধরে নথি আপলোডের কাজ বন্ধ। এই মুহূর্তে কেউ ভুয়ো পরিচয়পত্র জমা দিয়ে অপরাধ করে পালিয়ে গেলে কী হবে, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লালবাজারের এক কর্তা জানিয়েছেন আগামী দু-একদিনের মধ্যে এই সমস্যা মিটে যাবে।