Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজোর ১২ দিনে কলকাতার কপালে জুটল বাড়তি সাড়ে ১৫ হাজার টন জঞ্জালের বোঝা

প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০০ টন আবর্জনা বা কঠিন বর্জ্য তৈরি হয় কলকাতা শহরে। পুরসভা এই আবর্জনা ধাপায় ফেলে।

পুজোর ১২ দিনে কলকাতার কপালে জুটল বাড়তি সাড়ে ১৫ হাজার টন জঞ্জালের বোঝা
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০০ টন আবর্জনা বা কঠিন বর্জ্য তৈরি হয় কলকাতা শহরে। পুরসভা এই আবর্জনা ধাপায় ফেলে। কিন্তু পুজোর সময় বর্জ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। পুরসভার জঞ্জাল সাফাই ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের হিসেব বলছে, চলতি বছর মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত ১২ দিনে বাড়তি সাড়ে ১৫ হাজার টনেরও বেশি জঞ্জাল সংগ্রহ হয়েছে। এমনিতেই ধাপা ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ধারণক্ষমতা ছাপিয়ে গিয়েছে। তার উপর পুজোর সময় বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বাড়তি বর্জ্য নিয়ে এখন কার্যত ‘ছুঁচো গেলার অবস্থা’ পুর কর্তৃপক্ষের।

Advertisement

উৎসবের আমেজে শহরজুড়ে চলে হই-হুল্লোড়, দেদার খানাপিনা। রাস্তার পাশের স্থায়ী দোকানপাট তো বটেই, অস্থায়ীভাবে বসা বহু পসরায় উপচে পড়ে ভিড়। এই ক’দিনে বাইরে থেকে বহু মানুষ আসেন শহরে। সব মিলিয়ে পথেঘাটে অতিরিক্ত আবর্জনা জমে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবার বাড়তি সাফাইকর্মী নামিয়েছিল পুরসভা। নিয়ম করে প্রতিদিন দু’দফায় সাফাই হয়েছে শহর। বিভিন্ন মণ্ডপ চত্বরে সর্বক্ষণের সাফাইকর্মী রাখা হয়েছিল। বিভাগীয় এক আধিকারিক বলেন, ‘কোনওদিন বাড়তি ১৩০০ টন, কোনওদিন আবার ১৫০০ থেকে ১৬০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ হয়েছে শহরে। রোজ গড়ে ১৩০০ টন ধরলে মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত ১৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত জঞ্জাল উঠেছে।’ 
আগেই শহরে চালু হয়েছে বর্জ্যকে উৎসেই পৃথকীকরণের ব্যবস্থা। পচনশীল আবর্জনা ও প্লাস্টিকজাত বা অপচনশীল বর্জ্য আলাদা আলাদা বালতিতে জমাতে হচ্ছে। ধাপায় চালু হয়েছে পুনর্নবীকরণযোগ্য বর্জ্যর প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট। কিন্তু তারপরও সব অপচনশীল বর্জ্য পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এক বিভাগীয় কর্তা বলেন, ‘ধাপায় পচনশীল বর্জ্য প্রসেসিং করে সার, বায়োগ্যাস হচ্ছে। ফলে আমরা পচনশীল জজ্ঞাল অনেকটাই কমিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু উৎসেই জঞ্জাল পৃথকীকরণ ব্যবস্থা চালুর পর অচনশীল বা প্লাস্টিক বর্জ্য অনেক জড়ো হয়েছে, যা সবটা প্রসেসিং করা সম্ভব হয়নি। সেগুলি পড়েই থাকছে ধাপায়। ছড়াচ্ছে দূষণ। তার উপর পুজোর ক’দিন এই বাড়তি আবর্জনা ফেলতে হয়েছে। ফলে কার্যত আগের অবস্থা ফিরে এসেছে ধাপায়। জানি না, এত জঞ্জাল কীভাবে, কত দিনে প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব হবে।’ পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, শুধু এই বাড়তি জঞ্জাল নয়, রোজকার আবর্জনা ধরলে পুজোর এই ক’দিন গড়ে ৫৮০০ থেকে ৬০০০ মেট্রিন টন আবর্জনা তোলা হয়েছে শহর থেকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ