Bartaman Logo
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিনভর নিম্নচাপের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলকাতা, গতবছর দুর্যোগের স্মৃতি ফিরবে না তো? আতঙ্ক শহরবাসীর

ঠিক একবছর আগে ২৩ সেপ্টেম্বরই সকালে উঠে শহরবাসী দেখেছিল, চারপাশ জলে ভেসে গিয়েছে।

দিনভর নিম্নচাপের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলকাতা, গতবছর দুর্যোগের স্মৃতি ফিরবে না তো? আতঙ্ক শহরবাসীর
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঠিক একবছর আগে ২৩ সেপ্টেম্বরই সকালে উঠে শহরবাসী দেখেছিল, চারপাশ জলে ভেসে গিয়েছে। সারারাতের বৃষ্টিতে শহর জলমগ্ন। কলকাতার মানুষ এমন ছবি খুব একটা বেশি দেখেনি। জমা জলে বিদ্যুত্পৃষ্ঠ হয়ে মারা গিয়েছিল একাধিক মানুষ। গত একবছরে কলকাতা শহরে পাল্টেছে অনেক কিছুই। রাজ্যে সরকারও পাল্টে গিয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের অঘটনের আতঙ্ক কাটেনি সাধারণ মানুষের। এবার একবছর পর ফের দুর্যোগের ছবি। মঙ্গলবার রাত থেকে নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি শহরে। বুধবার সকালেও তার অন্যথা হয়নি। এসব দেখে একবছর আগের আতঙ্ক আবার মাথাচারা দিয়েছে। ফুটপাতের দোকানদার থেকে নিত্যযাত্রী, বুধবার দিনভর আলোচনা চলল, আবার আগের বছরের মতো ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হবে না তো?

Advertisement

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে বিকেল পর্যন্ত ৭০ মিমি, দমদমে প্রায় ৫০ মিমি ও কলকাতায় (আলিপুর) ৩২ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের অতি গভীর নিম্নচাপের জেরে আজ, বৃহস্পতিবার কলকাতা সহ আশপাশের জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। শুক্রবার বৃষ্টির প্রভাব কিছুটা কমবে বলে অনুমান। 
পুজোর একমাসও বাকি নেই। প্যান্ডেলের কাজ জোরকদমে চলছে। শপিং শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বুধবার সকাল থেকেই বৃষ্টি। ফলে পুজোর বাজার ফাঁকা ফাঁকা। কলকাতায় বৃষ্টি একটানা হয়নি। তখন সুযোগ বুঝে পুজোর বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা চোখে পড়েছে। তবে দিনভর কমবেশি বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়তে হয়েছে নিত্যযাত্রীদের। শহরে যানবাহনের গতি কম ছিল। এরই মধ্যে কলকাতার মনে পড়েছে গতবছরের কথা। ঠিক এই দিনেই প্রবল বৃষ্টিতে ভেসেছিল শহর। রাসবিহারী মোড়ের এক চা বিক্রেতা বললেন, ‘ফোনে নোটিফিকেশন এল, গতবছর এই দিনেই চারদিক গিয়েছিল ভেসে। দোকানের ক্ষতি হয়েছিল খুব। এখনও সকাল থেকে বৃষ্টি দেখে ভয় লাগছে। আবার ওরকম হবে না তো?’
কলকাতার থেকে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে এদিন বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত জনজীবন। কুলতলির নদী ও উপকূলীয় এলাকাগুলিতে কুলতলি ব্লক প্রশাসন সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রচার করেছে। তার সঙ্গে ক্রমাগত চলেছে বৃষ্টি। মাতলা নদীতে জলস্তর বেড়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। মাটির বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলেছে প্রশাসন। দুর্যোগের জেরে কুলতলির গোপালগঞ্জ পঞ্চায়েতের আটেশ্বর তলায় দু’টি গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গিয়েছে। বিদ্যুতের পোল উপড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা ছিল বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়ে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করেন বিদ্যুৎ কর্মীরা। প্রশাসনের দাবি, দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে। এছাড়া মৈপীঠেও হয় বৃষ্টি। মৎসজীবীদের সতর্ক করার কাজে নেমেছে মৈপীঠ উপকূল থানা। অন্যদিকে রায়দিঘিও ভেসেছে বৃষ্টিতে। দুর্বল নদীবাঁধের উপর নজর রাখছে মথুরাপুর দু’নম্বর ব্লক প্রশাসন। বারুইপুর আদালতে রেকর্ড রুমের পাশে গাছ ভাঙে হাওয়ার ঝাপটায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ