বরোদা: একেই বলে নিষ্ঠা! টিম ইন্ডিয়ার প্র্যাকটিস বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। আর বিরাট কোহলি স্টেডিয়ামে হাজির দুপুর তিনটেতেই। সতীর্থরা পৌঁছনোর আগেই একাকী সেরে ফেললেন একপ্রস্থ অনুশীলন। অথচ সম্প্রতি দুর্ধর্ষ ফর্মে রয়েছেন ভিকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে দুটো শতরান এসেছে। বিজয় হাজারে ট্রফিতেও দুটো ম্যাচেই সেরা। তারপরও সঙ্গী বাড়তি তাগিদ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের আগে সাধনায় মগ্নই দেখাল তাঁকে। মাঠে এসে প্রথমেই জিমে চলে যান তিনি। পরে লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং তো করলেনই, পাশাপাশি সতীর্থদের সঙ্গে শারীরিক কসরত ও ফুটবলে মাতলেন। প্রতিটি মুহূর্তই যেন উপভোগ করছেন ৩৭ বছর বয়সি মহাতারকা।
কোনও সন্দেহ নেই, ওডিআই ক্রিকেট নিয়ে হারানো উৎসাহ ফিরিয়ে এনেছে ‘রো-কো’ জুটি। বিরাটের মতো রোহিত শর্মাও এখন খেলেন শুধু পঞ্চাশ ওভারের ফরম্যাটে। তাঁদের দেখার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উথাল-পাথাল আবেগ। এক ঝলক দেখার জন্য, অটোগ্রাফের জন্য, সেলফির জন্য রীতিমতো পাগলামি। টিমবাস থেকে রোহিতকে নামতে দেখে তো উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল অপেক্ষমান জনতা। এদিন নেটে দুই মহারথীকেই দেখা গেল বড়দাদার ভূমিকায়। যশস্বী জয়সওয়ালকে কাছে ডেকে বোঝাচ্ছিলেন দু’জনে। আর বাধ্য ছাত্রের মতো তা শুনছিলেন তরুণ বাঁ-হাতি ওপেনার। চোট সারিয়ে শুভমান গিল দলে ফেরায় প্রথম এগারোয় যশস্বীর জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ওপেনিংয়ে রোহিতের সঙ্গী হচ্ছেন ক্যাপ্টেন গিলই। যদিও একেবারেই ছন্দে নেই তিনি।
তিন নম্বরে বিরাট, চারে প্রত্যাবর্তনকারী শ্রেয়স আয়ার। পাঁচে খুব সম্ভবত নীতীশ রেড্ডি। কারণ, পেস অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁকে গড়ে তুলতে হলে খেলাতে হবে। ছয়ে লোকেশ রাহুল। তাঁকে ফিনিশারের ভূমিকাতেই দেখতে চাইছে দল। রাহুলও তাতে বেশ স্বচ্ছন্দ। সাতে রবীন্দ্র জাদেজা। আটে হর্ষিত রানা বা ওয়াশিংটন সুন্দরের মধ্যে কোনও একজন। হর্ষিতের পাল্লাই অবশ্য খানিকটা ভারি। বাকি তিনটি জায়গা ফিক্সড— কুলদীপ যাদব, অর্শদীপ সিং ও মহম্মদ সিরাজ।
এদিনের নেটে দেখা একটা ফ্রেম আচমকাই চর্চার কেন্দ্রে। বিরাটকে বল থ্রো করছেন কোচ গৌতম গম্ভীর।
এমনিতে দু’জনকে একসঙ্গে বিশেষ দেখা যায় না। এদিনের দৃশ্য তাই সত্যিই বিরল। ‘রো-কো’ জুটিকে নিয়ে শ্রদ্ধাশীল প্রতিপক্ষ ড্রেসিং-রুমও। কিউয়ি ব্যাটার উইল ইয়ং বললেন, ‘ওরা দু’জনেই অবিশ্বাস্য ক্রিকেটার। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বক্রিকেটে রাজত্ব করছে। বেড়ে ওঠার দিনগুলোয় আরও অনেকের মতো আমিও ওদের ব্যাটিং দেখে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করতাম।’
কোটাম্বির বিসিএ স্টেডিয়ামে রবিবারই প্রথম পুরুষদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহ তুঙ্গে। পিচ একেবারে পাটা। চার-ছক্কার ফুলঝুরি দেখার আশায় প্রহর গুনছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। আর তা রোহিত-বিরাটের ব্যাটে হলে তো রীতিমতো পয়সা উসুল!