নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হওয়ায় শরীর চলে না। তবে অদম্য জেদ, মেধার জোরে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে রায়গঞ্জ শহরের নিউ উকিলপাড়ার বাসিন্দা কোয়েল বর্মন। কিন্তু এখন প্রবল আর্থিক সঙ্কটে একাদশ শ্রেণির পড়াশোনা কীভাবে হবে, তা নিয়েই বিপাকে কোয়েল ও তার পরিবার।
রায়গঞ্জের সৎসঙ্গ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী কোয়েল বর্মন। প্রতিকূলতা যেমন তার জন্মসূত্রে পাওয়া, তেমনই জীবনযুদ্ধ লড়াই করার জেদও ছোট থেকেই। তাই একজন লেখকের সাহায্যে এবছর সে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসে এবং পাশ করে। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৩৮৮। কোয়েলের মা ভারতী বর্মন বলেন, আমার দুই মেয়ে। কোয়েল বড় মেয়ে। আমার স্বামী কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছেন। আমরা নিউ উকিলপাড়ার একটি টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরে কোনও মতে থাকি। পরিচারিকার কাজ করে কোনওমতে সংসার চালাই। শারীরিক সমস্যা থাকলেও কোয়েলের পড়াশোনায় মন আছে। তবে ওকে বুঝিয়ে বুঝিয়ে পড়াতে হয়। ও লিখতে পারে না। ওর শরীর প্রায় ৯৫ শতাংশই অসাড়। লেখকের সাহায্যে ও মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। মেয়ে পাশ করেছে। কিন্তু আগামীতে ওর পড়াশোনা কীভাবে হবে তা নিয়েই এখন চিন্তা। কিন্তু মেয়ে নাছোড়বান্দা।
এদিকে কোয়েলের মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবরে খুশি রায়গঞ্জ পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটর পায়েল সাহা মণ্ডল। তিনি বলেন, কোয়েল অনেক প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করে এগচ্ছে। ও এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। আমরা শীঘ্রই ওর বাড়ি গিয়ে দেখা করে সহযোগিতা করব। মায়ের সঙ্গে কোয়েল বর্মন।-নিজস্ব চিত্র