Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কন্যাশ্রীর ফর্ম ফিল আপের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ হাইস্কুলের বিরুদ্ধে

কন্যাশ্রীর ফর্ম ফিল আপের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ হাইস্কুলের বিরুদ্ধে
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: কন্যাশ্রীর ফর্ম ফিল আপ ও এন্ট্রির জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল ফরাক্কার অর্জুনপুর হাইস্কুলের বিরুদ্ধে। কন্যাশ্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে একশো থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলে অুভযোগ ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের। যদিও এই কাজের জন্য টাকা নেওয়ার কোনও নিয়ম নেই। 
Advertisement
কন্যাশ্রী প্রকল্পে ছাত্রীদের ফি বছর একহাজার টাকা স্কলারশিপ দেওয়া হয়। এছাড়াও ১৮ বছর পর ছাত্রীদের এককালীন ২৫ হাজার টাকা দিয়ে থাকে রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই কাজের জন্য ছাত্রীদের থেকে টাকা নেওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক অভিভাবক ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহম্মদ সোহরাব আলি বলেন, এ বিষয়ে ফোনে মন্তব্য করব না, স্কুলে এলে কথা বলব।
জঙ্গিপুরের সহকারী স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) সন্দীপ কোঁড়া বলেন, ভর্তি বা কন্যাশ্রীর জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। যদি এমনটা হয়ে থাকে টাকা ফেরত দিতে বলব। উল্লেখ্য, এই স্কুলের বিরুদ্ধেই ভর্তির সময়ে ছাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ৩০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ আছে। সরকারি নির্ধারিত ভর্তি ফি ২৪০ টাকা হলেও ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ২৭০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কন্যাশ্রী ফর্ম ফিল আপের জন্য ১০০ টাকা, এন্ট্রির জন্য আড়াই শো টাকা ও ফর্ম ট্রান্সফারের জন্য ৫০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, সঠিকভাবে একাজগুলো না হলে আবেদন বাতিল হতেও পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই সঠিকভাবে ফর্ম ফিল আপ থেকে ফর্ম জমা কন্যাশ্রীর ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককেই দিয়ে করিয়ে থাকে ছাত্রীরা। ফলে ওই শিক্ষক অতিরিক্ত কাজের জন্য বাড়তি টাকা নেন বলে ছাত্রী ও অভিভাবকদের দাবি। বহুদিন থেকেই নাকি এভাবে টাকা নিয়ে কন্যাশ্রীর কাজ করা হচ্ছে। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ফাহিমা খাতুন বলেন, আমার মনেও প্রশ্ন জেগেছিল কন্যাশ্রীর জন্য কেন টাকা দেব? কিন্তু সব ছাত্রীরা দেয়, তাই আমিও ৫০ টাকা দিয়েছি। স্যারকে নাকি অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, তাই ওটা নাকি স্যারের অধিকার। আর আমারও ২৫ হাজার টাকা করে পাচ্ছি যখন, তখন ৫০ বা ১০০ টাকা দিতে গায়ে লাগে না। অপর এক ছাত্রী বলেন, আমার থেকেও টাকা নিয়েছে, তবে কত টাকা ঠিক এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।
স্কুলের কন্যাশ্রী বিভাগের নোডাল টিচার শিবশঙ্কর সাউ বলেন, ২০ থেকে ৩০ টাকা নেওয়া হয়। কারণ একটা ফর্মের জন্য পাঁচবার স্ক্যান করার প্রয়োজন পড়ে। প্রায় ৬০০০ হাজার ছাত্রীর ফর্ম স্ক্যান করে তা এন্ট্রি করতে বহু সময় লেগে যাবে। ছাত্রীদের সুবিধার্থে কিছু কাজ টাকা দিয়ে বাইরের কম্পিউটার সেন্টার থেকে করাতে হয়। তাই টাকা নেওয়া হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ