সংবাদদাতা, বর্ধমান: কানের দুলের লোভেই শেখ ওহাবকে খুন করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিস। কানের দুল বন্ধক দিয়ে সে কিছু টাকা ধার নিতে গিয়েছিল। বিষয়টি জেনে ফেলে খুনিদের একজন। এরপরই সোনার কানের দুল হাতানোর পরিকল্পনা করে তাকে খুন করা হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনটাই জানতে পেরেছে পুলিস। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সন্তোষ ঠাকুর ও সুমন হাজরা নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর থানার পুলিস। তাদের বাড়ি নবগ্রামে। বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ি থেকে সন্তোষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনায় সুমনের জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয় তদন্তকারীরা। এরপরই বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের এদিনই বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতদের সাতদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে নবগ্রাম মুসুণ্ডা রেলগেটের কাছে ওহাবের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর হাত-পা বাঁধা ছিল। ঘটনার বিষয়ে মৃতের ভাই শেখ নবাব জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিস। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, মশাগ্রাম স্টেশনবাজারের কাছে ওহাব সব্জির ব্যবসা করতেন। জুয়া ও মদে আসক্তির কারণে তাঁর বাজারে দেনা হয়ে যায়। তাঁর স্ত্রী ও ছেলে চেন্নাইয়ে থাকেন। বছর খানেক ধরে তিনি জামালপুরের বাড়িতে থাকতেন না। তিনি বন্ধকী কারবারও করতেন। ঘটনার দিন তিনি সোনার কানের দুল নিয়ে একটি দোকানে বন্ধক দিতে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি সন্তোষ জানত। সোনার কানের দুলের লোভেই তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করে সন্তোষ। তাতে তার সঙ্গ দেয় সুমন। দু’জনে মিলে তাঁকে খুন করে হাত-পা বেঁধে ফেলে দিয়ে যায়। ওহাবের কাছে থাকা ফোন ও টাকা-পয়সা তারা নিয়ে নেয়।



