Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু গৌড়বঙ্গ

কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু গৌড়বঙ্গ
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা: অগ্রহায়ণেই ঠান্ডার কামড়। পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্র তাপমাত্রা নিম্নমুখী। মঙ্গলবার দার্জিলিং শূন্য ডিগ্রির দরজায় কড়া নাড়ল। সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পিছিয়ে নেই গৌড়বঙ্গও। একধাক্কায় প্রায় চার ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জবুথবু অবস্থা সাধারণ মানুষের।
Advertisement
একদিন পর মঙ্গলবার মালদহে সূর্যের দেখা মিললেও শীতের কামড় ছিল অব্যাহত। ইংলিশবাজার সহ জেলায় রোদের খুব একটা তেজও ছিল না। অনেক বেলা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল বিভিন্ন এলাকা। দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি। যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় দুই ডিগ্রি কম।
এদিন উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের অবস্থাও ছিল প্রায় একই। ৪৮ ঘণ্টা কার্যত সূর্যের মুখ দেখতে পাননি রায়গঞ্জ তথা উত্তর দিনাজপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গ ঘেঁষা বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলে ঘূর্ণাবর্তের জন্য দু’দিন জেলায় শীতের কামড় বজায় থাকবে। সঙ্গে ঘন কুয়াশা। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৯.১ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। সিকিম আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিক গোপীনাথ রাহা বলেন,  রাতে স্বাভাবিকের থেকে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমতে পারে। ঘন কুয়াশার জন্য ৫০ থেকে ১৯৯ মিটার পর্যন্ত দূরত্বে দৃশ্যমানতা কম থাকবে। একই অবস্থা থাকবে আজ, বুধ ও বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে।
একইসঙ্গে সড়ক পরিবহণ পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে রাস্তায় নেমেছে ট্রাফিক পুলিস। সন্ধ্যায় ও ভোরে হাইওয়েতে দূরপাল্লার যানবাহন চালকদের তারা গরম জল ও চা খাওয়াচ্ছে।
এদিকে তিনবছর পর দার্জিলিং পাহাড়ে ফের তুষারপাতের প্রত্যাশা বাড়ছে। বড়দিনের মুখে পর্যটকরা তাই বরফ পড়ার আশায় দার্জিলিং পাহাড়ে ঘাঁটি গাড়ছেন।  এদিন সকালে পাহাড়ে একঝলক সূর্যের দেখা মিললেও কিছুক্ষণের মধ্যে উধাও হয়ে যায়। গোটা পাহাড় ঢেকে যায় কুয়াশায়। পাশের কালিম্পং জেলার ছবিটাও ছিল একই। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এদিন দার্জিলিং রাজভবন ও সেন্ট জোসেফ কলেজ এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১ এবং ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে এমন পরিস্থিতি। সান্দাকফু সহ পাহাড়ের উঁচু উপত্যকায় হালকা তুষারপাতের খবর মিলেছে। 
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দার্জিলিং শহর, ঘুম সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তুষারপাত হয়েছিল। এবার নভেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত সান্দাকফুতে তিনবার তুষারপাত হয়েছে। বড়দিনের মুখে এনিয়ে পর্যটকরা রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। ইতিমধ্যেই দার্জিলিংয়ের ম্যালে ভিড় করেছেন প্রচুর পর্যটক। তাঁরা কুয়াচ্ছন্ন পাহাড়ের আবহাওয়া উপভোগ করছেন। বড়দিনের ছুটিতে পাহাড় ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়েছেন অনেকেই। তাঁরা তুষারপাতের আশা করছেন। বড়দিন উপলক্ষে পাহাড়ে হোটেলের প্রায় ৬৫ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। তুষারপাতের সম্ভাবনা সহ আবহাওয়ার গতিবিধি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন পর্যটকরা।
সম্পর্কিত সংবাদ