নয়াদিল্লি: আরও একবার লজ্জার পরাজয়! কোটিপতি লিগের চলতি আসরে অভিযানের শেষটাও কলঙ্কিতভাবেই হল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। রবিবার শাহরুখের ফ্র্যাঞ্চাইজি ১১০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে। টার্গেট ছিল ২৭৯। জবাবে ১৮.৪ ওভারে কলকাতা মুখ থুবড়ে পড়ল ১৬৮ রানে। এই পরাজয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকার আটে নেমে এল কেকেআর (১৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট)। অন্যদিকে, হায়দরাবাদ উঠে এল ষষ্ঠ স্থানে (১৪ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট)। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের স্কোয়াডে যে আমূল সংস্কারের প্রয়োজন, এই পারফরম্যান্সেই পরিষ্কার। কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত, ক্যাপ্টেন অজিঙ্কা রাহানে সহ আরও কারও কারওর ভবিষ্যৎ তাই অনিশ্চিত দেখাচ্ছে। আন্দ্রে রাসেলদের আর কতদিন বয়ে চলা হবে, প্রশ্ন কিন্তু উঠছেই।
চলতি মরশুমের গোড়াতেই তিনশো রানের সম্ভাবনা উসকে দিয়েছিল সানরাইজার্স। এদিন, তাদের শেষ ম্যাচেও একসময় তেমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল। হেনরিক ক্লাসেনের ঝোড়ো সেঞ্চুরির (৩৯ বলে অপরাজিত ১০৫) সামনে কার্যত হামাগুড়ি দেয় নাইটদের সাধের বোলিং লাইন-আপ। শেষ পর্যন্ত যদিও আইপিএলের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বাধিক স্কোরে (২৭৭-৩) থামে সানরাইজার্স। অবশ্য তালিকার প্রথম দুটো স্কোরও হায়দরাবাদের, ২৮৭-৩ ও ২৮৬-৬।
১৮ দিন পর মাঠে নামা নাইটদের ব্যাটে-বলে, সব বিভাগেই ছন্নছাড়া দেখায়। অ্যানরিখ নর্তজে চার ওভারে দিলেন ৬০ রান। বরুণ চক্রবর্তীর তিন ওভারে ওঠে ৫৪। সমসংখ্যক ওভারে হর্ষিত রানা দেন ৪০। আন্দ্রে রাসেল দু’ওভারে খরচা করেন ৩৪। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত হিসেবে ২৪ রান উপহার দেন বোলাররা। তার মধ্যে ওয়াইড ১৪টি। সুনীল নারিন (২-৪২) ছাড়া বাকিদের যেন মরচে পড়া অবস্থা।
শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা। সানরাইজার্সের দুই ওপেনার এদিন পুরনো মেজাজে তোলেন ঝড়। অভিষেক (১৬ বলে ৩২), ট্রাভিস (৪০ বলে ৭৬) ফেরার পর দলকে আড়াইশোর ওপারে নিয়ে যান ক্লাসেন। তিন নম্বরে নেমে ২৬৯.২৩ স্ট্রাইক রেটে ৯টি ছক্কা ও ৭টি চার মারেন তিনি। ক্লাসেনের সেঞ্চুরি আসে ৩৭ বলে। সঙ্গতে ছিলেন ঈশান কিষান (২৯), অনিকেত ভার্মারা (অপরাজিত ১২)।
২৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই দুই উইকেট হারায় কলকাতা। নারিন (১৬ বলে ৩১) চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁকে স্লোয়ারে বোল্ড করেন জয়দেব উনাদকাট। রাহানেও (আট বলে ১৫) শিকার হন বাঁ-হাতি পেসারের। এরপর শুধুই যাওয়া-আসার পালা। হতাশ করেন কুইন্টন ডি’কক (১৩ বলে ৯), রিঙ্কু সিং (ছয় বলে ৯), আন্দ্রে রাসেল (এক বলে ০), অঙ্গকৃষ রঘুবংশী (১৮ বলে ১৪), রামনদীপ সিং (পাঁচ বলে ১৩)। ১১০ রানে সাত উইকেট পড়ার পর মণীশ পাণ্ডে ও হর্ষিত রানার জুটিতে ওঠে ৫২। নাহলে দেড়শোর ওপারেই দাঁড়ি পড়ত ইনিংসে। মণীশকে (২৩ বলে ৩৭) ফেরান উনাদকাট (৩-২৪)। হর্ষিত (২১ বলে ৩৪) আউট হন এশান মালিঙ্গার (৩-৩১) বলে। বাঁ-হাতি স্পিনার হর্ষ দুবেও (৩-৩৪) নজর কাড়েন।