সুকান্ত বেরা, কলকাতা: ভ্যাপসা গরম, তার উপর প্রচণ্ড আর্দ্রতা। অনুশীলনে দর দর করে ঘামছে নাইটরা। তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে দেখা গেল কুইন্টন ডি’কক, গুরবাজদের। ক্লান্ত শরীরে কেউ কেউ বসে পড়েছেন সবুজ গালিচায়। মিনিট পনেরো হল মাঠে নেমেছে পাঞ্জাব কিংসও। কিন্তু তিনি কোথায়? অবশেষে ব্যাট জোড়া দোলাতে দোলাতে মাঠে ঢুকলেন শ্রেয়স আয়ার। শনিবার ইডেনে পাঞ্জাব-কলকাতার ফিরতি লড়াইয়ে তিনিই যে মুখ্যচরিত্র।
গতবার শ্রেয়সের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কেকেআর। কিন্তু আর্থিক চুক্তি নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় শ্রেয়সকে রিলিজ করে দেয় শাহরুখের দল। সিদ্ধান্ত যে বুমেরাং হবে, সেটা বোঝা যায়নি। আসলে গাধা পিটিয়ে গরু বানানোর বুদ্ধি নিয়ে ঠান্ডা ঘরে বসে দল পরিচালনা করলে এমনটাই হয়। তা নাহলে বিজয়ী অধিনায়ককে ছুড়ে ফেলে মধ্যমানের বেঙ্কটেশ আয়ারের জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয় করে! শ্রেয়সের নেতৃত্বে এবার দুরন্ত ফর্মে পাঞ্জাব। তিনি নিজেও রানের মধ্যে আছেন। ইডেনে আরও একটা হিসেব মেলানো যে তাঁর বাকি। কেকেআর কর্তাদের মুখের উপর জবাব দিতে চান মুম্বইকর। তাই অনুশীলনে নিজেকে উজাড় করে দিলেন। কিছুক্ষণ ওয়ার্ম-আপের পর শ্রেয়স যখন একা নকিং করছিলেন, তখন ফ্যাল ফ্যাল করে তাঁর দিকে তাকিয়ে কেকেআরের এক শীর্ষকর্তা। কিন্তু আঙুল কামড়ে আর কী হবে!
পর পর দু’টি ম্যাচ হেরে প্রবল চাপে নাইট রাইডার্স। বাকি ছ’টির মধ্যে কমপক্ষে পাঁচটিতে জিততেই হবে প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকতে গেলে। চাপ বাড়ছে কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের উপর। ফর্মে না থাকা আন্দ্রে রাসেলকে বাদ দেওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে। তাহলে কি পাঞ্জাব ম্যাচে ডাগ-আউটই হবে ‘দ্রে-রাস’এর ঠিকানা! তবে ক্যারিবিয়ান মহাতারকা ছন্দে ফিরতে মরিয়া। টিম মাঠে আসার আগেই তিনি সিএবি’র ইন্ডোরে ঢুকে পড়েছিলেন। ঘণ্টা দেড়েক পর যোগ দেন দলের সঙ্গে।
দীর্ঘ আইপিএল কেরিয়ারে রাসেলের এতটা খারাপ সময় আসেনি। স্পিনারদের বিরুদ্ধে হামাগুড়ি দিচ্ছেন। লেগ স্পিনারদের বিরুদ্ধে তাঁর দুর্বলতা প্রকট। আট ম্যাচে ব্যাটে মাত্র ৫৫ রান। এক-দু’ওভার হাত ঘোরাচ্ছেন। তাই রাসেল বাদ পড়লে খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা নয় কেকেআরের। কিন্তু তাঁর জায়গায় কাকে খেলানো হবে? নেটে দেখা গেল রভম্যান পাওয়েল দীর্ঘক্ষণ ব্যাট করলেন। তিনি হার্ড হিটার। তবে আরও এক বিকল্প রয়েছে— লাভনিথ সিসোদিয়া। তরুণ এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানকে খেলিয়ে চমক দিতে পারে নাইট রাইডার্স টিম ম্যানেজমেন্ট। ওপেনিং জুটি কিছুতেই জমাট বাঁধছে না। ডি’কককে বাদ দিয়ে গুরবাজকে খেলিয়েও লাভের লাভ কিছু হয়নি। ফলে টিম কম্বিনেশন নিয়ে কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত রীতিমতো ধন্দে পড়েছেন।
মুল্লানপুরে দুই দলের গত সাক্ষাতে জয়ের জন্য মাত্র ১১১ তাড়া করতে নেমে ৯৫ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল কেকেআর। চাহালের স্পিনের ভেল্কিতে ধসে গিয়েছিল নাইটদের ব্যাটিং। সেই আতঙ্ক এখনও কাটেনি। ইডেনের পিচে হাল্কা ঘাস রয়েছে। প্র্যাকটিসের আগে রাহানে, বেঙ্কটেশরা দলবদ্ধ হয়ে উইকেট দেখলেন। কিন্তু কিছু কি বুঝতে পারলেন? ইডেনের উইকেট যেন নাইটদের কাছে গোলকধাঁধা। আসলে নাচতে না জানলে সব উঠোনই যে বাঁকা!