Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাস্তায় হাঁটুসমান জল, ঘরে খেলছে মাছ, পশ্চিম মাসুন্দায় তীব্র ভোগান্তি

ভাঙাচোরা রাস্তায় হাঁটুসমান জল। কোনও গাড়ি গেলে দুই পাশের বাড়িতে ঢেউ আছড়ে পড়ছে। সামান্য নিচু বাড়িও জলমগ্ন

রাস্তায় হাঁটুসমান জল, ঘরে খেলছে মাছ, পশ্চিম মাসুন্দায় তীব্র ভোগান্তি
  • ১৬ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভাঙাচোরা রাস্তায় হাঁটুসমান জল। কোনও গাড়ি গেলে দুই পাশের বাড়িতে ঢেউ আছড়ে পড়ছে। সামান্য নিচু বাড়িও জলমগ্ন। সেখানে খেলছে মাছ। নিউ বারাকপুর পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের চড়কতলা মাঠ লাগোয়া পশ্চিম মাসুন্দার চিত্র দেখে যে কেউ চমকে উঠবেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ফি বছর বর্ষা হলেই এই পরিস্থিতি হয়। শুধু সাত নম্বর নয়, পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডই জলমগ্ন। বৃষ্টি বেশি হলে আমাদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। 

Advertisement

চড়কতলা মাঠ লাগোয়া পশ্চিম মাসুন্দার বাসিন্দা আশিসকুমার ঘোষ ওরফে হারু। বৃদ্ধ হারুবাবু রাস্তা পারাপার করছিলেন দুই হাতে ক্রাচ নিয়ে। জল দিয়ে হাঁটতে সমস্যা হয় কি না, প্রশ্নে থমকে দাঁড়ান। বলেন, শুধু আমি নই, রোজ কত শিশু এই রাস্তায় হাঁটে। মহিলারাও তীব্র সমস্যায় ভোগেন। রাস্তার পাশে ময়লা জমে আছে দেখুন। ড্রেন নোংরায় পরিপূর্ণ। এসব দেখার লোক নেই। তিনিই একপ্রকার জোর করে পাঠালেন পাশের গলিতে। সেখানেও হাঁটুসমান জল। একাধিক বাড়ি জলমগ্ন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা ঘর দেখিয়ে বললেন, ঘরের মধ্যে মাছ খেলছে। বাচ্চাদের নিয়ে কীভাবে আছি, আপনারাই দেখুন। পাশের বিলকান্দা অটো স্ট্যান্ড লাগোয়া রাস্তা ড্রেনের রূপ নিয়েছে।
আগের নিম্নচাপের সময় থেকেই পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের বড় অংশ জলমগ্ন। এছাড়া ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৯, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও জলযন্ত্রণায় নাজেহাল। আট নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজি সুভাষ রোডের বিলকান্দা অটো স্ট্যান্ড, জনতা রোড, জনকল্যাণ পাড়া, সাত নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মাসুন্দা চড়কতলা মাঠ, নেতাজি সঙ্ঘ, বুড়ির বাড়ি সংলগ্ন এলাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কোদালিয়ার নবারুণপল্লি, বারো বিঘা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বেশি বর্ষা হলেই জলযন্ত্রণা তীব্র হয়ে ওঠে।
নিউ বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বলেন, চড়কতলা মাঠের রাস্তার মাটি পরীক্ষার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর রাস্তা ও ড্রেন তৈরি করা হবে। ফতেসা ও নোয়াই খালে জল বেশি থাকায় অনেক এলাকায় জল উঠেছিল। খালে জল নামার পর এলাকার জলমগ্ন দশাও কেটেছে। এছাড়া নিচু এলাকার জল নামানোর জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ