Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেন্দ্রের অবহেলায় বন্ধ ‘দুয়ারে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কেন্দ্র’, সমস্যায় লোধা-শবররা

কেন্দ্রের অবহেলায় বন্ধ ‘দুয়ারে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কেন্দ্র’, সমস্যায় লোধা-শবররা
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: কেন্দ্রের টাকা না মেলায় বন্ধ হতে বসেছে লোধা-শবরদের চিকিৎসা পরিষেবা। ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর, এই দুই জেলার ১৫টি ‘দুয়ারে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কেন্দ্র’ প্রকল্পে ২০২১-’২২ অর্থবর্ষ থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকারের মিনিস্ট্রি অব ট্রাইব্যাল অ্যাফেয়ার্স। ফলে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন ব্লকের এই ‘দুয়ারে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কেন্দ্র’ চালু রাখা নিয়ে উদ্বেগে জেলা প্রশাসন। 
Advertisement
এই নিয়ে গত ৬ নভেম্বর রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের জেলাশাসকের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। 
অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের জেলা প্রকল্প আধিকারিক পার্থ দে বলেন, এটি এসসিএ থেকে টিএসপি প্রোজেক্টের অধীনে চলত। কেন্দ্রের সেই প্রোজেক্টটিই উঠে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের থেকে তা টেক আপ করার চেষ্টা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, বিষয়টি ট্রাইবাল ডিপার্টমেন্টকে জানানো হয়েছে। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে ঝাড়গ্রাম ও জামবনী ব্লকের সানগ্রাম ও প্রণবপল্লি গ্রামের লোধা-শবর বাসিন্দারা তাঁদের গ্রামের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলি চালু রাখার জন্য ঝাড়গ্রাম জেলাশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে ইন্টিগ্রেটেড ট্রাইব্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট থেকে বহু বছর আগে থেকে এই জেলার ঝাড়গ্রাম ব্লকে ৪টি, নয়াগ্রামে ৪টি, সাঁকরাইলে ১টি, জামবনীতে ২টি ও বিনপুর-১ ব্লকে ৪টি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কেন্দ্রে লোধা-শবররা চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন। ভারত সরকারের মিনিস্ট্রি অব ট্রাইব্যাল অ্যাফেয়ার্সের স্পেশাল সেন্ট্রাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এসসিএ) থেকে ট্রাইব্যাল সাব প্ল্যান্ট (টিএসপি) প্রোজেক্টে এগুলিকে অনুদান দেওয়া হতো। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১১টি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কেন্দ্রে মোবাইল চিকিৎসা পরিষেবা নেই। পাঁচটি কেন্দ্রের আধ কিলোমিটারের মধ্যে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। বাকি দশটি কেন্দ্রের ৩-৫ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। প্রণবপল্লি এলাকার বাসিন্দা তথা পঞ্চায়েত সদস্য বুলেট মল্লিক বলেন, গ্রামের লোধা-শবররা সকালেই জঙ্গলে বা জমির কাজে বেরিয়ে যান। ফেরে সন্ধেবেলা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার সময় তাঁরা পান না। এই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলি থেকেই আমরা সবাই চিকিৎসা করাই। 
রাজ্যের লোধা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বলাইচন্দ্র নায়ক বলেন, কেন্দ্র এই খাতে টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের টাকা, ওষুধের দাম আমি নিজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলে ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে চিঠি লিখে পাইয়ে দিয়েছি। হোমিওপ্যাথি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি চালু থাকলে তো ভালোই হতো। 
সম্পর্কিত সংবাদ