Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকাও গায়েব করেছে প্রতারকরা

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকাও গায়েব করেছে প্রতারকরা
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ ও মুতাহার কামাল: চোপড়া শিকড় অনেক গভীরে! ট্যাবকাণ্ডের তদন্তে নেমে সামনে আসছে কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক প্রকল্পে আর্থিক প্রতারণার ঘটনা। এর শিকড় খুঁজতে এখন অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে পুলিস ও গোয়েন্দাদের।
Advertisement
কারণ শুধু ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ থাকেনি অপরাধীরা। এরাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, কেন্দ্রের ‘পিএম কিষাণ’, ‘প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা’ যোজনা সহ বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের টাকাতেও চোপড়ার সাইবার জালিয়াতরা থাবা বসিয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। 
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগেই প্রযুক্তি নির্ভর প্রতারণায় হাতেখড়ি হয়ে গিয়েছিল চোপড়ার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির কিছু যুবকের। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। ছলেবলে, কৌশলে পরপর নানা সরকারি প্রকল্পের টাকা হাতানোর পরিকল্পনা তারা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়িত করেছে। এই অপরাধকে কিছু এলাকায় রীতিমতো ‘কুটিরশিল্পে’ পরিণত করেছে চক্রীরা। দুঃস্থদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেওয়া থেকে শুরু করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে গ্রাহকের অজান্তে নতুন নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা,অপরাধের সূক্ষ্ম চিন্তাভাবনাকে বাস্তব রূপ দিয়েছে প্রতারকরা। এসব দেখে অবাক হচ্ছেন তদন্তকারী সাইবার বিশেষজ্ঞরাও।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি চোপড়ার ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধার অ্যাকাউন্টে  ‘প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা’ যোজনার পাঁচ হাজার টাকা ঢুকেছে। এই প্রকল্পে কেন্দ্র গর্ভবতীদের টাকা দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বৃদ্ধার অজান্তেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। একইভাবে চোপড়ার কিছু বাসিন্দার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘পিএম কিষাণ’ প্রকল্পে ভিনরাজ্যের বাসিন্দাদের টাকাও ঢুকেছে। এমনকী প্রতারকদের নজর পড়েছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’ও। যে কারণে অনেক সময় অভিযোগ ওঠে আবেদন জানিয়েও টাকা পাচ্ছেন না উপভোক্তারা। তদন্তে দেখা গিয়েছে, যে উপভোক্তা আবেদন করেছিলেন, তাঁর নামে সুবিধা চালু থাকলেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অন্যের। অর্থাত্ এক্ষেত্রেও প্রতারকরা তাদের জাল বিস্তার করে ফেলেছে।
এদিকে লাগাতার পুলিস ও গোয়েন্দাদের অভিযানের জেরে চোপড়ার বেশকয়েকজন মাস্টারমাইন্ড পালিয়ে বেড়াচ্ছে। শনিবার রাতভর চোপড়া থানার পুলিস অভিযান চালায়। যদিও রাঘববোয়াল বলতে যাদের বোঝায়, তেমন কেউ জালে পড়েনি। রবিবার দিনভর কালিম্পং সহ কয়েকটি জেলার থানার পুলিস চোপড়ার বেশকয়েকটি গ্রামে হানা দেয়। মুলত অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়েছিলেন এমন কিছু মানুষের বাড়িতেই অভিযান হয়। সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নথিপত্র নিয়ে গিয়েছে পুলিসের দলটি। এদিন তাঁরা জানার চেষ্টা করেন কাদের কাছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আধার, প্যানকার্ডের তথ্য অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা দিয়েছিলেন।
কীভাবে চলছে এমন প্রতারণা? তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, অনেক সময় কেন্দ্র ও রাজ্য বেসরকারিভাবে প্রচুর ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিযুক্ত করে। যারা অল্প টাকার বিনিময়ে সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার, প্যানের তথ্য পোর্টালে আপলোড করে। তাদের মধ্যেও কেউ এধরনের অপরাধে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারে বলে গোয়েন্দাদের অনুমান। একইভাবে ইতিমধ্যে ট্যাবকাণ্ডে আতসকাচের তলায় প্রান্তিক এলাকার কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টও (সিএসপি)।  
সম্পর্কিত সংবাদ