Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেন্দ্র দেয়নি, কম্পোজিট গ্রান্টের অর্থ বরাদ্দ রাজ্যের, ৭২৫’র বেশি সেকেন্ডারি স্কুলকে ২৫ শতাংশ টাকা

কেন্দ্র দেয়নি, কম্পোজিট গ্রান্টের অর্থ বরাদ্দ রাজ্যের, ৭২৫’র বেশি সেকেন্ডারি স্কুলকে ২৫ শতাংশ টাকা
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: একশো দিনের কাজ, আবাস যোজনার পর এবার শিক্ষাক্ষেত্রেও আর কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে চাইছে না রাজ্য। যার জন্য শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই স্কুলগুলির প্রাপ্য কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপাতত উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক, এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলিকে চক, ডাস্টার সহ স্কুলের পঠনপাঠন চালানোর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে টাকা দেওয়া হবে। যদিও প্রাথমিক স্কুলগুলোকে সেই টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রাজ্য সরকারের তরফে স্কুল পিছু ২৫ শতাংশ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাতে কিছুটা হলেও দুরাবস্থা কাটবে বলে মনে করছে শিক্ষক মহল। কারণ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে পঠনপাঠন চালিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছিল স্কুলগুলোর। নদীয়া জেলার সাতশোর বেশি স্কুল এই টাকা পাবে বলে জানা গিয়েছে। 
Advertisement
নদীয়া জেলা সর্বশিক্ষা মিশনের আধিকারিক রাজীব পান্ডে বলেন, ‘উচ্চ প্রাথমিক, সেকেন্ডারি ও হাই সেকেন্ডারি স্কুলগুলোর কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা আমরা ছাড়তে শুরু করেছি। নদীয়া জেলার মোট ৭২৫টি স্কুল এই টাকা পাবে।’
শিক্ষাক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য টাকা দেওয়া নিয়ে গড়িমসি করছে কেন্দ্র সরকার। এই খাতে কেন্দ্রের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া রয়েছে। কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা পায়নি নদীয়া সহ রাজ্যের প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলো। মূলত এই টাকা দিয়ে স্কুলের চক, ডাস্টার কেনা, বিদ্যুতের বিল মেটানো, পঠনপাঠনের বিভিন্ন সামগ্রী, খেলার সামগ্রী ইত্যাদি কেনা হয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে সেই টাকা দেয়। কিন্তু বাংলা ও দিল্লির সংঘাতে সেই টাকা আটকে রয়েছে। সচরাচর এই টাকা শিক্ষাবর্ষের মাঝখানেই চলে আসে। কিন্তু এবছর নভেম্বর মাস পর্যন্ত কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা আসেনি। শিক্ষক মহলের দাবি, এই টাকা প্রতিটা স্কুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই গ্রান্টের উপর স্কুলের পঠনপাঠনের গুণগতমান নির্ভর করে। 
নদীয়া দক্ষিণ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি কৌশিক বিশ্বাস বলেন, ‘কেন্দ্র সরকার রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চাইছে। তাই রাজ্য সরকারের তরফ থেকেই সেকেন্ডারি স্কুলগুলোকে কম্পোজিট গ্রান্টের ২৫ শতাংশ টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।’
নদীয়া উত্তর বিজেপির শিক্ষক সেলের কনভেনর অমিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘নিয়ম না মানার কারণে রাজ্যের কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা আটকে আছে। আদতে রাজ্য সরকারের ৪০ শতাংশ টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু তার পরিবর্তে ২৫ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র সেকেন্ডারি স্কুলগুলোকে। প্রাথমিক স্কুলগুলো কী দোষ করল? আমার মনে করি একটা গিমিক।’ সেকেন্ডারি পর্যায়ে ১৫ জন পর্যন্ত পড়ুয়া থাকা স্কুলগুলোর ১২ হাজার ৫০০ টাকা, ১০০ জন পর্যন্ত পড়ুয়া থাকা স্কুলগুলোর ২৫ হাজার টাকা, ২৫০ জন পর্যন্ত পড়ুয়া থাকা স্কুলগুলোর ৫০ হাজার টাকা এবং ১০০০ জন পড়ুয়া থাকা স্কুলগুলোকে ৭৫ হাজার টাকা কম্পোজিট গ্রান্ট হিসেবে পাওয়ার কথা। আর এক হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী যে স্কুলে রয়েছে তাদের প্রাপ্য এক লক্ষ টাকা।  অথচ সেই প্রাপ্য টাকার কোনও হদিশ ছিল না চলতি শিক্ষাবর্ষে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বারবার বিষয়টি উত্থাপন করার পরেও কেন্দ্র টাকা দেওয়া নিয়ে উৎসাহ দেখায়নি। নদীয়া উত্তর তৃণমূলের মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দিলীপ সিংহ বলেন, ‘স্কুল চালানোর জন্য কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে স্কুলগুলো অনেকটাই উপকৃত হবে।’
সম্পর্কিত সংবাদ