Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেন্দ্রীয় বাজেটে কাটোয়ায় এনটিপিসির তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভাগ্য নির্ধারণ হল না 

কেন্দ্রীয় বাজেটে কাটোয়ায় এনটিপিসির তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভাগ্য নির্ধারণ হল না 
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেন্দ্রীয় বাজেটে জানা গেল না কাটোয়ায় এনটিপিসির তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ। তাই নিয়ে আশাহত জমিদাতারা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রকল্পের জমিতে শিল্প গড়ে উঠুক, কর্মসংস্থান বাড়ুক। প্রস্তাবিত এলাকা ক্রমশ পরিত্যক্ত হচ্ছে। শ্রীখণ্ডের এনটিপিসি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক চর্চা। 
Advertisement
কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এটা ভোটের জন্য সিপিএম গিমিক করেছিল। কেন্দ্রীয় সরকারও গিমিক করল। আমরা ক্যাবিনেটে এটা নিয়ে আলোচনাও করেছিলাম। কেন্দ্রীয় সংস্থা এনটিপিসি যদি এখানে কিছু না করে, তাহলে জমি ফেরত দিক রাজ্য সরকারকে। আমরা আবার চিঠি দেব এনটিপিসিকে। 
কাটোয়ায় এনটিপিসি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে পরিকাঠামো গড়ে তুললেও এখনও থমকে আছে প্রকল্পের কাজ। দু’বছর আগে শ্রীখণ্ডের প্রস্তাবিত ওই প্রকল্পের জমি রাজ্যকে ফেরাতে চেয়ে নবান্নে এসে এনটিপিসি কর্তারা বৈঠক করেছিলেন। সেখানে জমি ফেরত নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল রাজ্য। তারপর থেকে প্রকল্প এলাকা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য হয়নি। 
সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য অচিন্ত্য মল্লিক বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কর্মসংস্থান নিয়েও বাজেটে দিশা দেখাতে পারেনি। রাজ্যে নতুন শিল্প গড়ে উঠলে তবেই তো বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। কিন্তু এখন পুঁজিবাদীদের বাজেট ঘোষণা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য বাজেট নয়, আমরা চাই অধিগৃহীত জমিতে যেকোনও ধরনের কর্মসংস্থানমুখী শিল্প হোক, যাতে বেকারদের কর্মসংস্থান হয়। তা নাহলে আবার আমরা আন্দোলন গড়ে তুলব। 
জানা গিয়েছে, কাটোয়ার শ্রীখণ্ড মৌজায় ২০০৬ সালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। তারপর তৎকালীন রাজ্য সরকার ধাপে ধাপে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে। ঠিক হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দু’টি ইউনিট গড়া হবে। ২০০৮-০৯ সালের মধ্যে ৫৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রথম দিকে পিডিসিএল প্রস্তাবিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তদারকি করছিল। পরবর্তীতে রাজ্য সরকার এনটিপিসিকে প্রকল্পের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেয়। তখনই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পরিবহণের সুবিধার্থে বর্ধমান-কাটোয়া রেলপথের ব্রডগেজে উন্নীতকরণের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে বর্ধমান কাটোয়া ন্যারোগেজ রেলপথ ব্রডগেজে উন্নীত হয়েছে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল বীরভূমের দেউচা পাচামি থেকে কয়লা আমদানি করা হবে। দেউচা কয়লা ব্লক চালু হলেও তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হল না। ২০১৫ সাল থেকে একের পর এক এনটিপিসির অফিসারদের কাটোয়ার শ্রীখণ্ড থেকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকেই পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছে প্রকল্প এলাকা। 
চুড়পুনি, শ্রীখণ্ড, দেবকুণ্ডু মৌজার জমিদাতাদের বক্তব্য, আমাদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, এখানে শিল্প গড়ে উঠবে, চাকরি হবে। কিন্তু এখন সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। শ্রীখণ্ডের কংগ্রেস নেতা দীপক মজুমদার প্রকল্প এলাকায় জমি অধিগ্রহণের সময় বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বাজেট দেখে আমরা জমিদাতারা আশাহত হয়েছি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ