Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেন্দুপাতার দাম বৃদ্ধি ও জিএসটির চাপে বাড়ি শিল্পে নাভিশ্বাস, সঙ্কট 

কেন্দুপাতার দাম বৃদ্ধি ও জিএসটির চাপে বাড়ি শিল্পে নাভিশ্বাস, সঙ্কট 
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা আরামবাগ: কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সঙ্কটের মুখে খানাকুলের বিড়ি শিল্প। অনেকেই অন্য কাজের দিকে ঝুঁকছেন। বিড়ি শ্রমিকরা বলেন, আগে কেন্দুপাতা সহায়ক মূল্যে কিনতে পাওয়া যেত। ফলে সে সময়ে ভালো লাভ হতো। এখন কেন্দুপাতার দাম বেড়ে যাওয়ায় বিড়ি তৈরি করে আর লাভ হচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে এই সমস্যার সমাধানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। স্থানীয় ঘোষপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আলেয়া বেগম বলেন, আমাদের এলাকার অনেক মহিলায় এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। আমরা তাঁদের পাশে সব সময়ে রয়েছি। এই শিল্পে আর্থিক সঙ্কটের কথা আমরা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানাব।
Advertisement
স্থানীয় ও পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ মহাকুমার মধ্যে খানাকুল ১ ব্লকের অন্তর্গত ঘোষপুর এলাকায় বহু পরিবার বিড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। সাধারণত মহিলারা বাড়িতেই গৃহস্থালির কাজের ফাঁকে বিড়ি বাঁধেন। কয়েক হাজার মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। ঘোষপুর এলাকার বিড়ি কারখানার  মালিক সোমনাথ প্রতিহার এবং অভিজিৎ কোনার বলেন, বিড়ি শিল্পের ওপর জিএসটির মারাত্মক চাপ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিড়ির ওপর ২৮ শতাংশ জিএসটি বসানোর ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তার ওপর রয়েছে তো উপকরণের দাম বৃদ্ধি। এর ফলে আমাদের বিড়ি তৈরি করতে অনেক টাকা লেগে যাচ্ছে। রাজ্য সরকার কেন্দুপাতা উৎপাদনে তেমন গুরুত্ব না দেওয়ায় আমাদের বাইরের রাজ্য থেকে বেশি খরচ করে কেন্দুপাতা কিনতে হচ্ছে। সেই তুলনায় বাজারে বিড়ি কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে প্রতিযোগিতায় টেকা যাচ্ছে না। তাই ঘোষপুরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। 
অন্যদিকে এক বিড়ি শ্রমিক তানজিরা বিবি বলেন, আমার মতো বহু মহিলা বিড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত। আমরা ঘরের কাজ সেরে বিড়ি বেঁধে সংসারে হাল ধরতে পেরেছি। আগে ১০০০ বিড়ি বাঁধলে ১৮০ টাকা পেতাম। এখন তা বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে। এই টাকা দিয়ে কি আর সংসারের হাল ধরা যায়। আমরা মালিককে বেতন বাড়ানোর জন্য বললে তাঁরা কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কথা বলছেন। এখন ১০০ দিনের কাজও বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে কম বেতনে বিড়ি বাঁধতে হচ্ছে। এদিকে, এই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি উঠছে। ছোট বিড়ি প্রস্তুতকারকদের স্বার্থে জিএসটির হার কমানো ও সহায়ক পদক্ষেপ করার দাবি উঠেছে। এতে ছোট বিড়ি কারখানার মালিকরা তাঁদের শ্রমিকদের যথাযথ মজুরি দিতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ