সংবাদদাতা, কালনা: বৃহস্পতিবার কালনা থানার ভবানন্দপুরের একটি হিমঘরের অ্যামোনিয়া গ্যাস চেম্বারের কমপ্রেসার মেশিন ফেটে দু’ জনের মৃত্যুতে শুক্রবারও এলাকায় চাপা আতঙ্ক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে আত্মীয়দের বাড়িতে চলে গিয়েছেন। হিমঘর সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন গাছ ও চাষের জমিতে আলু, ধান ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। শুক্রবার তিন সদস্যের এক এক্সপার্ট টিম ঘটনাস্থলের বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করেন। এলাকায় চাপা আতঙ্ক থাকায় শনিবার পর্যন্ত আশপাশের সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক টিম এসে হিমঘরের ঘটনার তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট দিলে স্কুল চালু হবে বলে মহকুমা শাসক জানান। এদিকে আর ক’দিন বাদেই ব্যাপক ভাবে এলাকার আলু উঠতে শুরু করবে। আলু সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়েও চাষিরা চিন্তিত। এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় অ্যামোনিয়া গ্যাসের মৃদু কটু গন্ধ রয়েছে চারিদিকে। আশেপাশের গাছপালাগুলির পাতা নিস্তেজ হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রামপ্রসাদ মাঝি বলেন, গাছপালাগুলি ঝলসে যাওয়ার মতো হয়ে গিয়েছে। সবুজ ভাবটা তেমন নেই। আমের বোলের ক্ষতি হবে। এছাড়াও মাঠের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। হিমঘর চালু হলে আর কোনও ভয়ের কারণ আছে কিনা তাও বুঝতে পারছি না। মহকুমা শাসক শুভম আগরওয়াল বলেন, শুক্রবার এক্সপার্ট টিম ঘটনাস্থল তদন্ত করছে। মেশিনারি থেকে অন্যান্য দিকগুলিও তাঁরা খতিয়ে দেখেছেন। ফরেনসিক টিম এসে রিপোর্ট দিলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্কুলগুলি শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। চাষের যেসব জমির ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে, সেগুলিকে বিমার আওতায় আনার জন্য ব্লক কৃষিদপ্তরকে বলা হয়েছে। ব্লক কৃষি আধিকারিক সুব্রত ঘোষ বলেন, হিমঘরের ঘটনায় ২১ জন চাষি ক্ষতির আশঙ্কায় আবেদন জমা দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি ইনসিওরেন্স কোম্পানির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।



