Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে সিআইডি’র এক ডিএসপি এবং কাঁকসার আইসি 

কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে সিআইডি’র এক ডিএসপি এবং কাঁকসার আইসি 
  • ২৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মুখ্যমন্ত্রীর ধমকের পরেই পদক্ষেপ করা শুরু করল রাজ্য পুলিস। তড়িঘড়ি  সমস্ত জেলার এসপি, পুলিস কমিশনারসহ শীর্ষ পুলিস কর্তাদের নিয়ে  বৈঠক করলেন ডিজি রাজীব কুমার। ডিজি স্পষ্ট নির্দেশ দেন সংগঠিত অপরাধ, বেআইনিভাবে বালি কয়লা পাচার সহ অনৈতিক কাজ কড়া হাতে দমন করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে। এরপরই নড়েচড়ে বসেন পুলিস কর্তারা। বৃহস্পতিবার রাতেই সাসপেন্ড করা হয় বারাবনি থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে। শুক্রবার সকালেই কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠানো হয়েছে সিআইডির এক ডিএসপি ও কাঁকসা থানার আইসিকে। সূত্রের খবর, আরও বেশ কয়েকজন পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের খোঁজখবর চলছে। সংশ্লিষ্ট অফিসাররা অবৈধ কাজে মদত দিচ্ছেন এই অভিযোগ পেলেই  তাঁদের  বিরদ্ধ ব্যবস্তা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে এবার অবৈধ বালি ও লোহা কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগে শুক্রবার কোকওভেন থানার পুলিস ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার অরবিন্দ নন্দী ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার প্রিয়াঙ্কি পাঁজার স্বামী শুভাশিস পাঁজা ওরফে রিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে। দু’জনই এলাকায় দাপুটে তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত। শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ঘিরে শিল্পাঞ্চলে শোরগোল পড়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাবনি থানার ওসি মনোরঞ্জনবাবুর বিরুদ্ধে কয়লা মাফিয়াদের সাহায্য করার অভিযোগ আসছিল। এর বিনিময়ে তিনি বিপুল টাকা বেআইনিভাবে রোজগার করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। জেলায় গুঞ্জন, এই টাকার একটা অংশ তিনি দুই রাজনৈতিক দাদাকে দিয়ে এসেছিলেন।  কিছুদিন আগেই বারাবনি থানাতে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অসিত সিংয়ের জন্মদিন পালন করার ছবি ভাইরাল হয়েছিল। এছাড়াও গোরান্ডি এলাকায় অবৈধ কয়লা কাটতে গিয়ে খাদান ধসের যাওয়ার ঘটনা নিয়েও শোরগোল পড়েছিল। বাবারনি থানা এলাকাতেই কয়লা চুরি আটকাতে গিয়ে সিআইএসএফ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে। মূলত গোরান্ডি ও জামগ্রাম এলাকায় ব্যাপকভাবে কয়লা লুটের অভিযোগ রয়েছে। ডিসি সন্দীপ কাররা বলেন, থানার পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর নানা ত্রুটি ধরা পড়েছে। অভিযোগগুলির তদন্ত করে তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কমিশনার। 
Advertisement
যদিও শুধু বারাবনি নয়, কয়লা পাচারের অভিযোগ রয়েছে কুলটি থানার সবনপুর এলাকাতেও। চৌরাঙ্গি ফাঁড়ির নাকের ডগায় সেই কাজ দিনের পর দিন চলছে বলে অভিযোগ। একইভাবে কয়লা পাচারের অভিযোগ রয়েছে জামুড়িয়া থানা এলাকাতেও। রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, পাণ্ডবেশ্বর, কাঁকসা থানা এলাকায় ব্যাপকভাবে বালি পাচারের অভিযোগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে অবৈধ কারবারের সঙ্গে পুলিসের একাংশের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন তাতে শিল্পাঞ্চলের আরও রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকী, একাধিক পুলিস অফিসার শাস্তির মুখে পড়তে পারেন বলেও জোর চর্চা চলছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ