নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: এ যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! হাওড়ার ফরশোর রোড সংযোগকারী ব্যস্ততম কে সি দত্ত রোডে ধস নামার পর রাস্তার নীচে তৈরি হওয়া গহ্বর বন্ধ করতে গিয়ে নতুন বিপত্তির মুখে পড়ল কেএমডিএ। প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ গভীর, প্রায় ১৩ ফুট পর্যন্ত মাটি ধসে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তার উপর ফেটে যাওয়া ব্রিটিশ আমলের স্যুয়ারেজ লাইন এবং মাটির নীচে সিইএসসির গিজগিজে তারের জঞ্জাল এখন বড়ো মাথাব্যথার কারণ। লাগাতার বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবার দিনভর কাজও বারবার ব্যাহত হয়।
হাওড়া পুলিশ কমিশনারের বাংলোর কাছে বুধবার সকালে কংক্রিট ব্লক বসে গিয়ে রাস্তায় ধস নামে। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা দিয়ে মেদিনীপুরগামী বাস, কোনা এক্সপ্রেসওয়ের দিকে যাওয়া ভারী যানবাহন ছাড়াও প্রতিদিন ছোটো গাড়ি, টোটো, অটো ও বাইকের যাতায়াত লেগেই থাকে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ধসের অংশের পাশে গার্ডরেল বসিয়ে সাময়িকভাবে যান চলাচল চালু রাখা হলেও বুধবার রাত পর্যন্ত রাস্তার নীচে ঠিক কতটা গহ্বর তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট ছিল না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধসের অংশে রাস্তা খুঁড়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা। সন্ধে নাগাদ দেখা যায়, মাটির নীচে প্রায় ১৩ ফুট গভীর পর্যন্ত ধস নেমেছে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলের একটি স্যুয়ারেজ লাইনে ফাটল ধরায় সেখান থেকে জল বেরিয়ে ক্রমাগত মাটি ধসে যাচ্ছে। লাইনটি মেরামত করতে হলে আরও গভীর পর্যন্ত খোঁড়াখুঁড়ি করতে হবে। কিন্তু সেই কাজে বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিইএসসির একাধিক তার।
এদিকে, যানজট সামলাতে সকাল থেকে ভারী যানবাহন বার্ন স্ট্যান্ডার্ড মোড় থেকে গ্র্যান্ড ফরশোর রোড হয়ে রামকৃষ্ণপুর ঘাট রোডের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ছোটো গাড়িগুলিকে পাঠানো হয় রাউন্ড ট্যাংক লেন দিয়ে। ফলে সংকীর্ণ এই রাস্তাগুলিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কালঘাম ছুটেছে ট্রাফিক পুলিশের। হাওড়া সিটি পুলিশের এক আধিকারিক জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে দ্রুত কাজ শেষ করে ফরশোর রোড স্বাভাবিক করার জন্য সিইএসসিকে বলা হয়েছে। না হলে দীর্ঘক্ষণ এইভাবে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়।