Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কমছে গাছ, শিউলিও কম, প্রত্যন্ত গ্রামে দেখা মিলছে না খেজুরের রস

কমছে গাছ, শিউলিও কম, প্রত্যন্ত গ্রামে দেখা মিলছে না খেজুরের রস
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কমছে খেজুর গাছের সংখ্যা। তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে কমছে শিউলির সংখ্যাও। ফলে চাহিদা থাকলেও বাজারে জোগান নেই খেজুর রসের। হাতে গোনা কয়েকজন শিউলি গ্রামের খেজুর গাছ থেকে রস পেড়ে সাইকেলে করে ফেরি করেন। মুর্শিদাবাদ জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতেই খেজুরের রসের দাম ৫০ টাকা লিটার। দিনে দিনে কমছে খেজুর গাছের সংখ্যা। যে ক’টি গাছ আছে, তা থেকে রস পাড়ার লোক নেই। দু’-তিনটি গ্রাম অন্তর দু’-একজন করে শিউলি রস পেড়ে বিক্রি করছেন। কেউ কেউ দিনে ৪০ থেকে ৫০ লিটার পর্যন্ত রস বিক্রি করেন। শীতকালের দু’ মাস খেজুরের রস বিক্রি করে অনেক চাষি ও খেতমজুরও বাড়তি অর্থ রোজগার করছেন। খেজুরের গুড় ও পাটালি তৈরির জন্য এই রসের চাহিদা ভালোই। 
Advertisement
লালবাগের রস বিক্রেতা জহিরউদ্দিন শেখ বলেন, রসের দাম খুব বেশি নয়। কিন্তু গাছ থেকে পারার পর তা বেশিক্ষণ যে রাখা যায় না। দিনে ৩০ লিটার রস বিক্রি করি। লিটার পিছু দাম নিই ৫০ টাকা। লালবাগের ভাগীরথীর ওপার থেকে রস নিয়ে আসি। অধিকাংশ দিন লালবাগ শহর এবং কাশিমবাজারের দিকে গেলেই বিক্রি হয়ে যায়। টাটকা রসের চাহিদা ভালোই। তবে রস নামানোর লোক পাওয়া যায় না। আমাদের বাড়ির ছেলেরাও এখন এই কাজ করতে চায় না। 
ক্রেতা শামিম ইসলাম বলেন, প্রাতঃভ্রমণ করে বাড়ি ফেরার পথে দেখি বিক্রেতা টাটকা রস বিক্রি করেন। খুব কম দামে পাওয়া যায় বলে আমরা কিনে খাই। সকাল বেলায় ঠান্ডা রসে হালকা মিষ্টি থাকে। খুব উপাদেয়। বহরমপুরের বাসিন্দা অর্জুন সিংহ রায় বলেন, ছোটবেলায় মাঝেমধ্যেই শীতের শুরুতে খেজুর গাছের রস খেতাম। টাটকা রস শরীরের জন্য উপকারী। মাঝেমধ্যে দু’-একজন শিউলি রস নিয়ে আসে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা বিক্রি হয়ে যায়। 
নবগ্রামের গুড় প্রস্তুতকারক হাফিজুল শেখ বলেন, এখন তো খুব একটা বেশি শিউলিদের পাওয়া যায় না। তাই আমরা নিজেরাই খেজুর গাছ থেকে রস নামিয়ে আনি। ওদের কাছ থেকে খুব একটা বেশি রস কেনা যায় না। অনেক দাম নিয়ে নেবে। তাই কিছু কিছু গাছে আমরাই হাঁড়ি লাগিয়েছি। 
সম্পর্কিত সংবাদ