সংবাদদাতা, ঘাটাল: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা আগে মতো আর বাড়ছে না। বরং এইচআইভি পজিটিভ বাড়ার অনুপাত আগের থেকে অনেকটাই কমেছে। বিশ্ব এডস্ দিবসে এমনই সুখবর পাওয়া গেল স্বাস্থ্যদপ্তরের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা অফিস থেকে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, ‘এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা সে অর্থে বাড়ছে না। বাড়ার হার অনেকটাই কমেছে। আমাদের জেলায় এডস নিয়ে ধারাবাহিক সচেতনতা শিবির এবং প্রচারের জন্যই এটা হয়েছে। সেই সঙ্গে জেলার অ্যান্টি রেট্রিভাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টারগুলিও ভালো কাজ করে চলেছে।’ স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২২ সালের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৭৩ জনের মধ্যে এইচআইভি পজিটিভ পাওয়া গিয়েছিল। ২০২৩ সালে নতুন করে ১৭১ জনের পাওয়া গিয়েছে। এবার সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ১৩২। সারা জেলাতে এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৩৪৯২ জন। এর মধ্যে গর্ভবতী মহিলা ২২ জন।
Advertisement
জেলাতে যত জনের এইচআইভি পজিটিভ রয়েছে তার সিংহভাগই দাসপুর থানা এলাকার। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে দাসপুর থানা এলাকায় কমবেশি দু’হাজার জনের এইচআইভি পজিটিভ রয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু ও ছাত্রছাত্রী প্রায় ১০০। সারা জেলায় এইচআইভি পজিটিভ শিশু ও ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দু’শোর আশপাশে। জেলায় যতজন এইচআইভি পজিটিভ রয়েছেন তাঁদের ৩০ শতাংশই মহিলা। শিশু ও পড়ুয়া বাদ দিয়ে জেলার এইচআইভি পজিটিভ আক্রান্তদের অধিকাংশদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫-এর মধ্যে।
কম বয়সিদের হাতে কাঁচা পয়সা আসা দাসপুর থানা এলাকায় এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ। জনপ্রতিনিধিরা বলেন, ‘আমাদের থানার অধিকাংশ যুবক কম বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে মুম্বই, দিল্লি, আমেদাবাদ, সুরাত, নেপাল, দুবাই সহ বিভিন্ন জায়গায় সোনার কাজে চলে যায়। কর্মস্থলে গিয়ে পারিশ্রমিক বাবদ হাতে কাঁচা টাকা আসে। সেই টাকা দিয়ে স্বেচ্ছাচারী জীবনযাপন করার ফলেই তাদের অনেকেই এইচআইভি পজিটিভ হয়ে পড়ছেন। তাঁদের থেকেই তাঁদের সঙ্গীনি সংক্রমিত হন।’
তবে বর্তমানে স্বাস্থ্যদপ্তরের ধারাবাহিক প্রচার, সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ দেখে আম জনতা অনেকটাই সচেতন হয়েছেন। তাই আক্রান্তের সংখ্যাটাও অনেকটা কমেছে। এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের কাউন্সেলিং করেন ‘ওয়েস্ট মিডনাপুর সোসাইটি ফর পিপল লিভিং উইথ এইচআইভি পজিটিভ-এডস’-এর সদস্য দেবাশিস মাজি। তিনি বলেন, ‘মানুষ সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। নিজের কোনও সমস্যা হলেই চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন।’
স্বাস্থ্যদপ্তর জানাচ্ছে, এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের মধ্যে ভীতিটাও অনেকটা কমে গিয়েছে। আগে আক্রান্ত হলে বিষয়টি রোগী গোপন রাখতেন। এখন সেই ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়েছে। দেবাশিসবাবু বলেন, বহু এইচআইভি পজিটিভ রোগী সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। কর্মক্ষেত্রে ফিরে গিয়ে কাজ করছেন।
এনিয়ে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের অ্যান্টি রেট্রিভাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টারগুলিও ভালো কাজ করছে। ঘাটাল মহকুমায় এইচআইভি পজিটিভ রোগী বেশি থাকার জন্য ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও একটি এআরটি সেন্টার করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানান, সব মিলিয়েই এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হারটা কমেছে। এটা একটা ভালো লক্ষণ।
দেবাশিসবাবু বলেন, যেসম্ত ব্যক্তি এইচআইভি পজিটিভ হচ্ছেন তাঁদের রাজ্য সরকার অন্তোদয় রেশন কার্ডও দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এনিয়ে ঘাটাল মহকুমার কেউ সহযোগিতা চাইলে আমার ‘৯৯৩৩৯৫৫৮০৬’ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। বিনা খরচে এইচআইভি পজিটিভ রোগী ও তার পরিবার সমস্ত রকম সহযোগিতা পাবেন।
কম বয়সিদের হাতে কাঁচা পয়সা আসা দাসপুর থানা এলাকায় এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ। জনপ্রতিনিধিরা বলেন, ‘আমাদের থানার অধিকাংশ যুবক কম বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে মুম্বই, দিল্লি, আমেদাবাদ, সুরাত, নেপাল, দুবাই সহ বিভিন্ন জায়গায় সোনার কাজে চলে যায়। কর্মস্থলে গিয়ে পারিশ্রমিক বাবদ হাতে কাঁচা টাকা আসে। সেই টাকা দিয়ে স্বেচ্ছাচারী জীবনযাপন করার ফলেই তাদের অনেকেই এইচআইভি পজিটিভ হয়ে পড়ছেন। তাঁদের থেকেই তাঁদের সঙ্গীনি সংক্রমিত হন।’
তবে বর্তমানে স্বাস্থ্যদপ্তরের ধারাবাহিক প্রচার, সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ দেখে আম জনতা অনেকটাই সচেতন হয়েছেন। তাই আক্রান্তের সংখ্যাটাও অনেকটা কমেছে। এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের কাউন্সেলিং করেন ‘ওয়েস্ট মিডনাপুর সোসাইটি ফর পিপল লিভিং উইথ এইচআইভি পজিটিভ-এডস’-এর সদস্য দেবাশিস মাজি। তিনি বলেন, ‘মানুষ সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। নিজের কোনও সমস্যা হলেই চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন।’
স্বাস্থ্যদপ্তর জানাচ্ছে, এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের মধ্যে ভীতিটাও অনেকটা কমে গিয়েছে। আগে আক্রান্ত হলে বিষয়টি রোগী গোপন রাখতেন। এখন সেই ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়েছে। দেবাশিসবাবু বলেন, বহু এইচআইভি পজিটিভ রোগী সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। কর্মক্ষেত্রে ফিরে গিয়ে কাজ করছেন।
এনিয়ে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের অ্যান্টি রেট্রিভাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টারগুলিও ভালো কাজ করছে। ঘাটাল মহকুমায় এইচআইভি পজিটিভ রোগী বেশি থাকার জন্য ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও একটি এআরটি সেন্টার করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানান, সব মিলিয়েই এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হারটা কমেছে। এটা একটা ভালো লক্ষণ।
দেবাশিসবাবু বলেন, যেসম্ত ব্যক্তি এইচআইভি পজিটিভ হচ্ছেন তাঁদের রাজ্য সরকার অন্তোদয় রেশন কার্ডও দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এনিয়ে ঘাটাল মহকুমার কেউ সহযোগিতা চাইলে আমার ‘৯৯৩৩৯৫৫৮০৬’ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। বিনা খরচে এইচআইভি পজিটিভ রোগী ও তার পরিবার সমস্ত রকম সহযোগিতা পাবেন।



