নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বকেয়ার পরিমাণ প্রায় আট কোটি টাকা! টানা প্রায় ১৮ বছর কলকাতা পুরসভাকে বিনোদন কর (অ্যামিউজমেন্ট ট্যাক্স) বাবদ কোনও টাকা দিচ্ছে না সিএবি (ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল)। বছর বছর বকেয়া বাড়তে থাকার ফলে এই বিপুল অঙ্কে এসে পৌঁছেছে। বিনোদন কর আদায় করতে গত নভেম্বর মাস থেকে দফায় দফায় সিএবিকে চিঠি দিয়ে চলেছে পুরসভা। বিষয়টি নিয়ে বৈঠক চেয়ে দিন তিনেক আগে ফের সিএবিকে চিঠি দেয় পুর কর্তৃপক্ষ। সেই সূত্রে মঙ্গলবার পুর কমিশনারের সঙ্গে সিএবি কর্তৃপক্ষের একটি বৈঠকও হয়। কিন্তু কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি বলেই পুরসভা সূত্রে খবর।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের যে টিকিট সিএবি বিক্রি করে, তার উপর নির্দিষ্ট হারে বিনোদন কর নেয় পুরসভা। পুর-আইনে সেই সংস্থান রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ম্যাচে আসন পিছু ১৫ টাকা করে কর ধার্য করা হয়। এক পুরকর্তা বলেন, সেই অনুসারে ইডেনে একটি একদিনের ম্যাচে ৬৫ হাজার আসনের জন্য বিনোদন কর বাবদ ৯ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা ধার্য হয়। কোনও ম্যাচের যত টিকিট বিক্রি হয়, তার ভিত্তিতেই করের পরিমাণ চূড়ান্ত হয়। এই টাকা সিএবির মেটানোর কথা। শুধু আইপিএলের সময় যে খেলা হয়, তার বিনোদন কর দেয় কেকেআর। সেই টাকাও বহু বছর ধরে বকেয়া পড়েছিল। একাধিকবার বৈঠক করে এক্ষেত্রে রফাসূত্র মিলেছে। কেকেআর এযাবৎ বকেয়া বিনোদন কর সবটাই মিটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সেই ২০০৭ সাল থেকে সিএবি কর দিচ্ছে না। কোনও পেনাল্টি না চাপানো সত্ত্বেও এত টাকা বকেয়া হয়েছে। পুরসভার তরফে অবশ্য প্রতি বছরই নিয়ম করে বিনোদন করের টাকা চেয়ে সিএবিকে ‘ডিমান্ড’ পাঠানো হয়। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি কোনও। এ প্রসঙ্গে সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলি বলেন, ‘পুরসভা আমাদের ডেকেছিল। তাদের জানিয়েছি, এই সংক্রান্ত কর দেওয়ার কথা নয় আমাদের। ২০০৭ সাল থেকে এটাই চলে আসছে। দেখা যাক, কী হয়।’ যদিও পুরসভা সূত্রে খবর, সম্প্রতি ফের তাঁদের চিঠি পাঠানোর পর মঙ্গলবার বকেয়া নিয়েই পুর কমিশনারের সঙ্গে সিএবির দুই শীর্ষকর্তার বৈঠক হয়েছে পুরভবনে। এক পুরকর্তা বলেন, ‘ওদের দাবি হল, আর্ন্তজাতিক ম্যাচ বিনোদন করের আওতায় পড়ে না। কিন্তু আমরা তাদের সামনে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশ তুলে ধরেছি। দেশের অন্যান্য ক্রিকেট সংস্থার থেকে সংশ্লিষ্ট পুরসভা যে টাকা নেয়, সেই তথ্যও প্রমাণস্বরূপ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আপাতত কোনও রফাসূত্র বেরয়নি। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’