Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কুম্ভমেলায় গিয়ে কুল বিক্রি করে লক্ষ্মীলাভ পূর্বস্থলীর ব্যবসায়ীদের, মুখে চওড়া হাসি

কুম্ভমেলায় গিয়ে কুল বিক্রি করে লক্ষ্মীলাভ পূর্বস্থলীর ব্যবসায়ীদের, মুখে চওড়া হাসি
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: প্রয়াগরাজের কুম্ভমেলায় প্রচুর জনসমাগম হচ্ছে। তাতেই লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে বাংলার ব্যবসায়ীদের। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী থেকে কুল নিয়ে বিক্রি করতে বহু ব্যবসায়ী কুম্ভমেলা পাড়ি দিচ্ছেন। লরিভর্তি করে কুল নিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। পুণ্যার্থীরা কুল কেনায় আয় হচ্ছে তাঁদের। এতে পূর্বস্থলীর চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। ভালো দাম পাচ্ছেন তাঁরা। কুম্ভমেলায় আসা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজনকে বাউকুল, ভারতসুন্দরী, বলসুন্দরী সহ নানা প্রজাতির কুলের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। 
Advertisement
পূর্ব বর্ধমান জেলার সব্জি ভাণ্ডার হিসেবে সুনাম রয়েছে পূর্বস্থলীর। সারা বছর এখানে সব্জি চাষ হয়। এখান থেকে সব্জি বিভিন্ন রাজ্যে পাড়ি দেয়। কয়েক বছর ধরে এখানকার চাষিরা নানা প্রজাতির কুল চাষ করেছেন। পূর্বস্থলীর মুকশিমপাড়া, কালেখাঁতলা-১, শ্রীরামপুর, রানিপুর, বকপুর অঞ্চলের চাষিরা মূলত এমন নানা জাতের কুল চাষ করছেন। পূর্বস্থলী-২ ব্লকের সরডাঙা, বড়গাছি এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমিতে বাউকুল, বলসুন্দরী, ভারতসুন্দরী কুলের চাষ বেশি হয়েছে। 
এবার কুলের উৎপাদন তুলনামূলক কম হওয়ায় বাজারে দামও বেশি। অন্যান্য সব্জির দাম কম হওয়ায় এখান থেকে কুল নিয়েই বহু ব্যবসায়ী প্রয়াগরাজের কুম্ভমেলায় পাড়ি দিয়েছেন। লরিভর্তি কুল নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন। নিমেষের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। পূর্বস্থলীর রানিপুরের কুল চাষি বলরাম মণ্ডল বলেন, আমি এবার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছি। বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে। তার উপর এখানকার ব্যবসায়ীরা কুম্ভমেলায় কুল নিয়ে বিক্রি করছেন। তাতে আমরাও ভালো দাম পাচ্ছি। কেজি প্রতি ২০-২৪ টাকা দাম পাচ্ছি। মেলায় অনেক বিদেশি এসেছেন। তাঁরাও বাংলার নানা প্রজাতির কুলের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। জামালপুরের আড়তদার তথা কালেখাঁতলা-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দীপঙ্কর দাস বলেন, এবারে ফলন কম হওয়ায় বাজারে দাম ভালো আছে। তাছাড়া এবারে চাহিদাও বেশি। সামনেই শিবরাত্রির মেলা রয়েছে। কিন্তু প্রয়াগরাজের কুম্ভমেলায় এবার প্রচুর মানুষের সমাগম হচ্ছে। তাই সেখানে কুল বেশি বিক্রি হচ্ছে। আমরাও লাভের মুখ দেখছি। চাষিরাও ভালো দাম পাচ্ছেন। 
পূর্বস্থলীর সরডাঙা এলাকার চাষি মিলন রায় বলেন, বাউকুল ২০-২২ টাকা, বলসুন্দরী ২৪-২৫, ভারতসুন্দরী ৩০-৩৫ টাকা প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। গতবছর এমন সময় এই দামও ছিল না। চাষিরা জানান, গতানুগতিক চাষ থেকে বেরিয়ে আপেল কুল চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ