Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

কুম্ভ স্পেশাল ট্রেনের নাম ঘিরে বিভ্রান্তি, নিউদিল্লি বিপর্যয়েও ঘুম ভাঙেনি রেলের

কুম্ভ স্পেশাল ট্রেনের নাম ঘিরে বিভ্রান্তি, নিউদিল্লি বিপর্যয়েও ঘুম ভাঙেনি রেলের
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: প্রয়াগরাজ-অযোধ্যা ক্যান্টনমেন্ট মেলা স্পেশাল। প্রয়াগরাজ সঙ্গম-অযোধ্যা ক্যান্টনমেন্ট মেলা স্পেশাল। অথবা প্রয়াগ-অযোধ্যা ক্যান্টনমেন্ট মেলা স্পেশাল। বেনজির বিভ্রান্তির এ যেন এক অদ্ভুত ছবি! শুধুমাত্র একদিনে ৬২টি মহাকুম্ভ স্পেশাল ট্রেন। কিন্তু তার মধ্যে ১৫টির নামেই ‘প্রয়াগরাজ’ যোগ। বহু স্পেশাল ট্রেনের নামে দু’-একটি শব্দের হেরফের। যেমন প্রয়াগ, প্রয়াগরাজ বা  প্রয়াগরাজ সঙ্গম। ঠিকমতো ঘোষণা না শুনলে তাড়াহুড়োর মধ্যে সাধারণ যাত্রীদের বিভ্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। 
Advertisement
গত শনিবার নিউদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ এই নামের ‘ভ্রান্তি’। প্রায় একই নামের দু’টো ট্রেনের কার্যত একই সময়ে ঘোষণা থেকেই মূল বিভ্রান্তির সূত্রপাত হয়েছিল শনিবার রাতে। প্রয়াগরাজ ‘স্পেশাল’ এবং প্রয়াগরাজ ‘এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রীরা বিভ্রান্ত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করতে বিপত্তি ঘটে। অভিযোগ, এরপরেও কোনও শিক্ষা নিচ্ছে না রেলমন্ত্রক। সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ট্রেনের নাম ঘিরে বিভ্রান্তি দূর করতে কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না তারা। কুম্ভগামী একের পর এক স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছে প্রয়াগরাজ নামেই। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নয়াদিল্লির রেলভবনের অন্দরে। মন্ত্রকের কর্তাদের একাংশ বলছেন, কোনও মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের নাম পাল্টে ফেলা সম্ভব নয়। কিন্তু স্পেশাল ট্রেনের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাড়াহুড়োর মধ্যে প্রয়াগরাজ সঙ্গম স্পেশাল এবং প্রয়াগ স্পেশালের যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। এমন উদাহরণ আরও আছে। ফলে চাইলে সতর্কতা অবলম্বন তকা যায়। বুধবার সারা দেশে যত কুম্ভ স্পেশাল ট্রেন চালানো হয়েছে, তার তালিকা এসেছে ‘বর্তমান’এর হাতে। সেই তালিকা থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে, প্রয়াগরাজগামী স্পেশাল ট্রেনগুলিতে নামের গেরো কাটিয়ে উঠতে পারছে না রেল। সূত্রের খবর, শনিবারের দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার রেলমন্ত্রকের আওতাধীন সংস্থা ‘রাইটস’-এর প্রধান রাহুল মিত্তলের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ওই বৈঠকে নিউদিল্লি, আনন্দ বিহার টার্মিনাল, গাজিয়াবাদ, বারাণসী এবং অযোধ্যা স্টেশনে স্থায়ী ‘হোল্ডিং এরিয়া’ তৈরির উপর বিশেষভাবে জোর দিতে বলা হয়েছে। অবিলম্বে এই সংক্রান্ত নকশা জমা দিতে বলা হয়েছে ‘রাইটস’কে।  
উল্লেখ্য, অত্যাধিক যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এমন ৬০টি স্টেশনে জেনারেল ক্লাসের যাত্রীদের জন্য স্থায়ী হোল্ডিং এরিয়া তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ