Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কল্যাণী এইমসের হৃদরোগীরা ভিড় করে গান্ধী মেমোরিয়ালে

কল্যাণী এইমসের হৃদরোগীরা ভিড় করে গান্ধী মেমোরিয়ালে
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
দীপন ঘোষাল, কল্যাণী: বেশ ঘটা করে কল্যাণী এইমসে হৃদরোগ বিভাগের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুশি হয়েছিলেন রাজ্যবাসী। গরিব, মধ্যবিত্তরা ভেবেছিলেন ব্যয়বহুল হৃদরোগের চিকিৎসা এবার এইমসে করানো যাবে নামমাত্র খরচে।  কিন্তু, তিন-চারমাসের মধ্যে সেই স্বপ্ন চুরমার। সাধারণ অ্যাঞ্জিওগ্রাম করতেই দিতে হয় মোটা টাকা। ফলে, ঝাঁ চকচকে এইমস নয়, প্রান্তিক মানুষের ভরসা লাগোয়া সেই রাজ্য সরকারি গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালই। তার চেয়েও বড় কথা, মাসে ছয় শতাধিক রোগীকে এইমস থেকে রেফার করা হয় রাজ্যের হাসপাতালে! বিষয়টি মেনে নিয়েছে এইমস কর্তৃপক্ষও। 
Advertisement
২০২৪ সালের অক্টোবর মাস। ভার্চুয়ালি কল্যাণী এইমসে হৃদরোগ বিভাগের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কার্ডিওলজি ক্যাথ ল্যাব, হার্ট অ্যান্ড লাং মেশিন ও  কার্ডিওভাসকুলার চিকিৎসা পরিষেবা শুরু হয়। এতদিন হৃদরোগের চিকিৎসায় ভরসা ছিল রাজ্য সরকারের গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল। যেটি রাজ্যের হৃদরোগ চিকিৎসার একমাত্র হাসপাতাল। ফলে, এইমসের নিজস্ব বিভাগ চালু হওয়ার আগে পর্যন্ত সমস্ত হৃদরোগীদেরই পাঠিয়ে দেওয়া হতো সেখানে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হৃদরোগের পৃথক বিভাগ উদ্বোধন হলেও তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। 
খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, এখনও প্রতিমাসে ৬০০ জনের বেশি রোগী এইমস হাসপাতাল থেকে গান্ধীতে রেফার হয়ে আসেন হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য। গড়ে প্রতিদিন সংখ্যাটা কুড়ির আশেপাশে। গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালের সুপার আশিস মৈত্র বলেন, ‘প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন রোগী এইমস থেকে আমাদের হাসপাতালে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য। আমরা অবশ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য সব রকম ভাবেই প্রস্তুত। যাঁরা আসেন তাঁরা চিকিৎসাও পান। যেহেতু আমাদের হাসপাতালে শুধুমাত্র হৃদরোগ চিকিৎসা করা হয়, তাই শুধু কল্যাণী নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও আসেন।’  
কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি? এইমস সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকারি নিয়ন্ত্রিত  হাসপাতালে হৃদরোগের চিকিৎসা শুরু হলেও তা এখনও গরিব থেকে মধ্যবিত্ত বাঙালির আয়ত্তের মধ্যেই নেই। কারণ এইমসে চিকিৎসা পরিষেবা  মোটেও দাতব্য নয়। খরচও বেশ আকাশছোঁয়া। তাও আবার রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা মেলে না এইমসে। ফলে, ৮-১০ টাকা খরচ অ্যাঞ্জিওগ্রাম করাতে পারছেন না গরিব মানুষ। সেই সঙ্গে প্রতিদিন বেড ভাড়া দিতে হয় ৩৫ টাকা। ওষুধ কিনে আনতে হয় বাইরে থেকে। এছাড়াও শল্য চিকিৎসার ক্ষেত্রেও নিজস্ব রেট রয়েছে কেন্দ্রীয় হাসপাতালটিতে। অগত্যা কেন্দ্রের দুয়ারে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসেও আশাহত হয়েই রাজ্য সরকারের হাসপাতালের শরণ নিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিষয়টি অবশ্য একপ্রকার স্বীকার করেই নিয়েছে এইমস কর্তৃপক্ষ। জনসংযোগ আধিকারিক তথা চিকিৎসক সুকান্ত সরকার বলেন, আমাদের পরিকাঠামো নেই এমন কিন্তু নয়। কিন্তু অনেকেই আসেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা করাতে। আমাদের এখানে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে চিকিৎসা হয় না। এছাড়াও অত্যন্ত সামান্য হলেও খরচ রয়েছে এটা ঠিক। তাই যারা বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা চান, তাদেরকে গান্ধী বা অন্যান্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দিতে হয়।  গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল। মঙ্গলবার তোলা নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ