Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ক্লাসরুম সঙ্কট, শিক্ষাকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক বিচারপতির, চাইলেন স্কুলের তথ্য

ক্লাসরুম সঙ্কট, শিক্ষাকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক বিচারপতির, চাইলেন স্কুলের তথ্য
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত ২৯ নভেম্বর সকালে আচমকা জলপাইগুড়ি সুনীতিবালা সদর প্রাইমারি স্কুলে উপস্থিত হয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। সেসময় ক্লাসরুম, পানীয় জল সহ কিছু সমস্যা নজরে আসে তাঁর। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সার্কিট বেঞ্চে জেলার শিক্ষাকর্তাদের বৈঠকে ডাকেন ওই বিচারপতি। উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক বালিকা গোলে, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান লৈক্ষ্যমোহন রায় সহ সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষিকারা। জেলার শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। 
Advertisement
পরে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায় বলেন, বিচারপতি যত দ্রুত সম্ভব প্রাথমিক স্কুলগুলির ডেটা বেস তৈরি করতে বলেছেন। সেখানে কোন স্কুলে, কত শিক্ষক, কত পড়ুয়া রয়েছে, সেই তথ্যের পাশাপাশি কত পড়ুয়ার জন্য ক’টি ক্লাসরুম, শিক্ষকদের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য, সবকিছুই উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। আমরা সেইমতো কাজ শুরু করব।
সুনীতিবালা সদর গার্লস হাইস্কুলের ক্যাম্পাসেই প্রাথমিক বিভাগের পড়াশোনা চলে সকালে। অভিযোগ, প্রাথমিকে ১৩০০’র বেশি পড়ুয়া। কিন্তু প্রাইমারি বিভাগের জন্য বরাদ্দ মাত্র ১৯টি ঘর। এর মধ্যে তিনটি ঘরে অফিশিয়াল কাজকর্ম হয়। বাকি ১৬টিতে ক্লাস চলে। ফলে এক-একটি ক্লাসে ৭০-৮০ জন পড়ুয়াকে বসতে হয়। এনিয়ে প্রাথমিক বিভাগের তরফে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছে, ক্লাসরুমের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য। এদিন জেলা শিক্ষাকর্তাদের সঙ্গে বিচারপতির বৈঠকের সময় সদর গার্লসের প্রাথমিক বিভাগের ক্লাসরুম সঙ্কটের বিষয়টি ওঠে। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক বলেন, সদর গার্লসের প্রাথমিক বিভাগের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস তৈরি করা যায় কি না তা দেখতে বলেছেন বিচারপতি। আমরা সেইমতো উদ্যোগ নিচ্ছি। সদর গার্লসের প্রাথমিকের পড়ুয়া সংখ্যা বেশি হওয়ায় মিড ডে মিল খাওয়ার জন্য তারা নিজেদের ডাইনিং হল ছাড়াও হাইস্কুলের ডাইনিং হল ব্যবহার করে। কিন্ত‌ু খাওয়ার পর ওই ডাইনিং হল অপরিচ্ছন্ন থাকে বলে অভিযোগ। সেটি যাতে নিয়মিত পরিষ্কার করে দেওয়া হয়, তা নিয়েও বৈঠকে কথা হয়েছে বলে জানান প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক। তিনি বলেন, সদর গার্লসের প্রাথমিক বিভাগের স্কুল শেষের পর একই ক্যাম্পাসে হাইস্কুলের মেয়েরা ঢোকে। ফলে পড়ুয়াদের উপর নজরদারি রাখার জন্য স্কুল গেটে যে সিসি ক্যামেরা রয়েছে, তার সংযোগ যাতে হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকার পাশাপাশি সদর গার্লসের প্রাথমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষকের ঘরেও দেওয়া হয়, সে ব্যাপারেও বলেছেন বিচারপতি। 
সম্পর্কিত সংবাদ