Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ক্লাসে, পরীক্ষায় গরহাজির অনেক পড়ুয়া, খবর পেয়ে ছুটলেন বিডিও

ক্লাসে, পরীক্ষায় গরহাজির অনেক পড়ুয়া, খবর পেয়ে ছুটলেন বিডিও
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ক্লাসে কিংবা পরীক্ষায় গরহাজির থাকছে অনেক পড়ুয়া। স্কুল ফেলে কেউ পরিবারের সঙ্গে চাষের কাজে ব্যস্ত, কেউ পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে চলে যাচ্ছে ভিনরাজ্যে। সবটা জেনেও হাতগুটিয়ে বসে রয়েছে কিছু স্কুল। ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন। শুক্রবার জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া তোড়লপাড়া নেতাজি বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলে পরিদর্শনে যান সদরের বিডিও মিহির কর্মকার। স্কুলের আঙিনায় পা রেখে চক্ষু চড়কগাছ তাঁর। জানতে পারেন, গত সোমবার থেকে ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। অথচ, পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫ জন পড়ুয়া পরীক্ষা দিচ্ছে না। তাদের বেশিরভাগ বাবা-মায়ের সঙ্গে আলু তোলার কাজে ব্যস্ত। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে শিক্ষকদের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন বিডিও। যেসব পড়ুয়া ফাইনাল পরীক্ষা দিতে আসছে না, তাদের স্কুলে আনার ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান।
Advertisement
শিক্ষকরা অবশ্য সাফাই দেন, ধরে বেঁধে পড়ুয়াদের স্কুলে আনার চেষ্টা করেন তাঁরা। তারপরও এই হাল। গোটা বিষয়টি শুনে উষ্মা প্রকাশ করেন বিডিও। আগামী শুক্রবার অভিভাবকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকতে বলেন নেতাজি বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের কর্তৃপক্ষকে। সেখানে তিনি নিজে থাকবেন বলে জানান।
এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন স্কুলে নিয়মিত পেরেন্টস-টিচার মিটিং (পিটিএম) না হওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিডিও। গত বৃহস্পতিবারও নিজের দপ্তরে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে মিটিংয়ে স্কুলগুলিতে পিটিএম না হওয়া নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বলেন, অভিভাবকদের সঙ্গে যদি স্কুলগুলি নিয়মিত বৈঠক না করে, তাহলে তাঁরা কীভাবে জানবেন, ছেলেমেয়েরা কেমন পড়াশোনা করছে। উত্তরে বিডিও অফিসের ওই বৈঠকে বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষকরা সাফাই দেন, পিটিএম ডাকলেও অভিভাবকরা আসতে চান না। হাতেগোনা দু-একজন আসেন। এরপর বিডিও শিক্ষকদের প্রস্তাব দেন, পিটিএম ডাকলে তার তারিখ জানিয়ে দেবেন পঞ্চায়েত প্রধানকে। অভিভাবকরা যাতে স্কুলে মিটিংয়ে যান, সেব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন প্রধানরা। এদিন পরিদর্শনের পর তোড়লপাড়া নেতাজি বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের সহ শিক্ষক সঞ্জীব সাহা বলেন, আমাদের স্কুলে বেশিরভাগ পড়ুয়া নিম্নবিত্ত পরিবারের। এখন আলু তোলা চলছে। সেকারণে বেশকিছু পড়ুয়া ওই কাজে চলে গিয়েছে। ৩৫জন পড়ুয়া ক্লাসের ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করেও তাদের পরীক্ষায় বসাতে পারিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই পড়ুয়াদের জন্য যদি আলাদা করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যায়, সে ব্যাপারে দেখতে বলেছেন বিডিও। আমরা চেষ্টা করছি।
সম্পর্কিত সংবাদ