Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালীপুজোর নিরঞ্জন শান্তিতেই মিটল কৃষ্ণনগরে

কালীপুজোর নিরঞ্জন শান্তিতেই মিটল কৃষ্ণনগরে
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া নির্বিঘ্নেই মিটল কৃষ্ণনগরের কালীপুজোর ভাসান। যদিও কালীপুজোর ভাসানকে ঘিরে বড়সড় ঝামেলা, একাধিক ক্লাবের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই সম্ভাবনা এড়ানো গিয়েছে। তবে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিসকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে একাধিকবার। ভাসান শেষ হতে সকাল হলেও, অশান্তির কারণে শোভাযাত্রায় বিঘ্ন ঘটেনি। লরিতে করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া অধিকাংশ পুজো কমিটি নতুন রুট মেনে চলেছে। এমনও দেখা গিয়েছে, নতুন রুটে দীর্ঘ পথ এড়াতে অনেক পুজো কমিটি রাজবাড়ির দিকে না গিয়ে সরাসরি কদমতলা ঘাটের দিকে প্রতিমা নিরঞ্জন করতে চলে গিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কৃষ্ণনগর শহরে ভাসানের শোভাযাত্রায় ঘরা বা গদা হাতে শোভাযাত্রায় সেভাবে কাউকে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। যা একপ্রকার বেনজির।‌ সবমিলিয়ে জগদ্ধাত্রী পুজোর আগে কালীপুজোর ভাসানের অ্যাসিড টেস্টে উত্তীর্ণ হয়েছে পুলিস প্রশাসন। জগদ্ধাত্রী পুজোর ভাসানেও এই উদাহরণকে সামনে রেখেই এগোতে চাইছে পুলিস।
Advertisement
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, ‘কালীপুজোর ভাসানে কোথাও বড় কোনও ঝামেলা হয়নি। নির্বিঘ্নেই ভাসান হয়েছে। জগদ্ধাত্রী পুজোর আগে পুজো কমিটিগুলোর সঙ্গেও বসব। জগদ্ধাত্রী পুজোর ভাসান সুষ্ঠুভাবে করতে যা যা প্রয়োজন আমরা সেইমতো ব্যবস্থা নেব।’
শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত কৃষ্ণনগর শহরের মোট ১০০টি প্রতিমার ভাসান হয়েছে। যার মধ্যে ৫৭টি ছিল লরির প্রতিমা এবং ৪৪টি সাঙের প্রতিমা ছিল। রাত সাড়ে বারোটা পর্যন্ত শুধু লরির প্রতিমার ভাসানপ হয়। তারপর শুরু সাঙের প্রতিমার ভাসান। চলতি বছরে কৃষ্ণনগরে দুর্গাপুজোর ভাসানের শোভাযাত্রাতেও একাধিক ক্লাবের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের হয়েছিল। কালীপুজোর ভাসানেও বড়সড় কোনও ঝামেলা হতে পারে সেই আশঙ্কা করেছিল পুলিস প্রশাসন। তাই শনিবারের ভাসান নিয়ে পুলিস মহলেও বাড়তি তৎপরতা ছিল। যার জেরেই ভাসান নিয়ে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয় পুলিসের তরফ থেকে। শনিবার রাতে বিচ্ছিন্ন কিছু জায়গায় অশান্তি হয়। কদমতলা ঘাট, এভি স্কুল মোড়ে বিশৃঙ্খলা এড়াতে লাঠিচার্জ করে পুলিস। বেশ কিছু জায়গায় পুলিসের সঙ্গে পুজো কমিটিগুলো বচসায় জড়িয়ে পড়ে। যদিও তা বড় আকার নেয়নি। 
শোভাযাত্রায় গদা বা ঘরা নিয়ে বেরোনোর পুরোনো প্রথা রয়েছে কৃষ্ণনগরে পুজোর ভাসানে। অনেক সময় সেই গদা ছিটকে এসে লাগে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীদের গায়ে। শুধু তাই নয়, অতীতে সেই গদা নিয়েও একে অপরের উপর চড়াও হতে দেখা গিয়েছে। তাই পুলিসের তরফ থেকে প্রথমেই গদাকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। সেইমতো শনিবার রাতে বেনজিরভাবে শোভাযাত্রায় ভারী গদা ও সেটি নিয়ে ‘জাগলিং’য়ের দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে ত্রিশূল কিংবা খাঁড়া নিয়ে শোভাযাত্রায় শামিল হতে দেখা গিয়েছে। পুলিস সেগুলোও কেড়ে নেয় অনেক পুজো কমিটির কাছ থেকে। ভাসানের পর অবশ্য সেসব ফিরিয়ে দেওয়া হয়।  লরির প্রতিমাগুলোর জন্য রুটের পরিবর্তন করা হয়। সেগুলো পোস্ট অফিস মোড় থেকে ফোয়ারার মোড়, সদরের মোড় হয়ে, এভি স্কুল মোড় দিয়ে রাজবাড়ি যেতে হবে। তারপর রাজবাড়ি থেকে কদমতলা ঘাট যাওয়ার কথা ছিল। 
সম্পর্কিত সংবাদ