সংবাদদাতা, কালনা: কালনা ফেরিঘাটে বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা। আর তাতেই ভাগীরথী নদীর উপর কালনা-শান্তিপুর সেতু দ্রুত নির্মাণের দাবি তুলছেন কালনা, নদীয়া ও হুগলি জেলার বাসিন্দারা। যদিও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন আর এই বিষয়ে তেমন কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সেতু নির্মাণ হলে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে জীবনহানি কমবে বলে আশাবাদী বাসিন্দারা।
Advertisement
বর্ধমান জেলার কালনা ও নদীয়া জেলার শান্তিপুরের মধ্যে সহজ যোগাযোগ মাধ্যম হল কালনা-শান্তিপুর ফেরি পরিষেবা। কালনা পুরসভার অধীন কালনা ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী সহ লোহার ভেসেলে ভারী যানবাহন পারাপার হয়। ২০১৬ সালে এই ফেরিঘাটে নৌকাডুবির ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৯ জনের। তারপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালনার এক প্রশাসনিক সভায় কালনা-শান্তিপুর সেতু নির্মাণের কথা ঘোষণা করেন। কালনার সাতগাছিয়া পঞ্চায়েতের হাঁসপুকুর এলাকা দিয়ে সেতু নির্মাণের সবুজ সংকেত মেলে। কালনা ও শান্তিপুরের দিকে জমি কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়। কালনার দিকে প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ ৪৭ দশমিক ৭৩ একর। সরকারিভাবে ভালো দাম পাওয়ায় জমিদাতারা দ্রুত জমি দেন। হাঁসপুকুর, সাহাপুর, বন্দেবাজ প্রভৃতি মৌজায় ১৩১টি প্লটের মধ্যে প্রয়োজনীয় ১৩১টি প্লট সম্পূর্ণভাবে কেনা হয়। বাকি ১৫টি প্লটের মধ্যে ১৪টি প্লটের আংশিক কেনা হয়। প্রয়োজনীয় জমির ৯৭ শতাংশের বেশি কেনা শেষ হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র ১ একর ১৯ শতক জমি কেনা বাকি রয়েছে। তাও বর্তমানে কিছু জমির মালিক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ‘পারচেস কমিটির’ সারা মিলছে না বলে অভিযোগ। ২০২২ সালের পর থেকে সবকিছুই থমকে রয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে এই সেতু নির্মাণ শাসক দলের কাছে বড় ইস্যু হয়ে ওঠে। তারপর একের পর এক ভোট গেলেও ২০২৩ সাল থেকে জমি কেনার কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও সেতু নির্মাণের তেমন উদ্যোগ দেখা না যাওয়ায় শাসক দলের নেতারাও সাধারণ মানুষের কাছে কোনও উত্তর দিতে পারছেন না। প্রশ্ন একটাই, কবে হবে সেতু ? কালনা ফেরিঘাটে কখনও নৌকাডুবিতে মৃত্যু, কখনও লোহার ভেসেল থেকে যানবাহন নদীতে পড়ে যাওয়া। বৃহস্পতিবার ফের কালনা ফেরিঘাটে লোহার ভেসেল থেকে ইট বোঝাই ট্রাক নদীতে পড়ে যায়। ট্রাকের নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় একজনের। এই ঘটনার পর থেকে সেতু নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। কালনা ও শান্তিপুরের বাসিন্দারা চান দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হোক।বাসিন্দাদের মতে, সেতু নির্মাণ হলে নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলার বাসিন্দারা দ্রুত এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পৌঁছে যেতে পারবে। দুই দিকে অর্থনৈতিক, ব্যবসায়িক ও পরিকাঠামোগত উন্নতি ঘটবে। বাসিন্দারা চান এলাকার জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসনিকস্তরে বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু হোক। সাতগাছিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান হরেকৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, সেতু নির্মাণে জমিদাতারা ভালো দাম পাওয়ায় আগ্রহের সঙ্গে জমি দিয়েছেন। আমরাও চাই দ্রুত সেতুর কাজ শুরু হোক। জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য ৯৮ শতাংশ জমি কেনার কাজ শেষ হয়েছে। এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।



