Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালনার সেই প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শুনানিতে ডেকে পাঠালেন সংসদ চেয়ারম্যান

কালনার সেই প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শুনানিতে ডেকে পাঠালেন সংসদ চেয়ারম্যান
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কালনার সাতগাছি জিএসএফপি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের শুনানির জন্য ডেকে পাঠালেন পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান। আগামী ৩ মার্চ বিকেল ৩টের সময় তাঁদের বর্ধমানে কাউন্সিলের অফিসে ডাকা হয়েছে। ওইদিন এসআই’কেও হাজির থাকার জন্য বলা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান মধুসূদন ভট্টাচার্য বলেন, ওই স্কুলের এক শিক্ষক ও এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়ারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দেখেই শেখে। তাঁরাই মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনও বিতর্কে জড়ানো উচিত নয়। অশ্লীল কোনও অভিযোগ ওঠা সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য শোভনীয় নয়। কিছু একটা না ঘটলে গ্রামের মানুষ প্রতিবাদ করবে কেন? 
Advertisement
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষাদপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, রাজ্য সরকার শিক্ষার অগ্রগতির জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা অশ্লীল আচরণ করে সেখানকার পরিবেশ নষ্ট করবেন, সেটা শোভা পায় না। গ্রামবাসীরা ওই স্কুলের এক শিক্ষক এবং শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অশ্লীল অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কালনা মহকুমার এক শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রেম কাহিনী এলাকায় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই তাঁরা প্রেমে হাবুডুবু খেতেন। শুধু এখানেই থেমে থাকা নয়, তাঁরা আরও গভীরে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দারা ভালোভাবে নেননি। তাঁরা পঞ্চায়েতে লিখিত অভিযোগ করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরানোর দাবি করেন। সংসদও এসব বিষয় ভালোভাবে দেখছে না। কোথাও এধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কালনার সাতগাছি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শুনানির জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন। 
ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পুলক মণ্ডল বলেন, আমাকে কালিমালিপ্ত করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, আমাকে নাকি হাতেনাতে ধরা হয়েছিল। অথচ ওইদিন আমি স্কুলেই ছিলাম না। এসআই অফিসে হাজির ছিলাম। তিনি আরও বলেন, আমি ওই স্কুল থেকে বদলি নিতে চেয়েছি। মাঝপথে বদলি নিতে চাওয়ার কারণেই হয়তো আমাকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। ওই গ্রামের সকলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। কয়েকজন প্রাচীর টপকে স্নান করতে আসত। এসবের প্রতিবাদ করেছিলাম বলেই হয়তো এধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান বলেন, ওই স্কুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অশ্লীল আচরণের পাশাপাশি শিক্ষকরা ঠিকমতো স্কুলে আসেন না বলেও অভিযোগ এসেছে। সেই কারণেই শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ