সংবাদদাতা, কালনা: কালনার উপলতি গ্রামে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের লোকজন। মৃতার নাম অনিতা মালিক(৪৭)। বধূর বাপেরবাড়ির অভিযোগ, মারধর ও শ্বাসরোধ করে তাঁদের মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে। পুলিস বধূর স্বামী নাদু মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
Advertisement
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নাদু মালিক প্রায়ই অনিতার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত। বিষয়টি অনিতার বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানানো হয়। তবুও নির্যাতন কমেনি বলে দাবি বধূর বাপের বাড়ির লোকেদের। রবিবার সকালে স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে বলে নাদু গ্রামে জানায়। খবর দেয় শ্বশুরবাড়িতে। অনিতার বাপেরবাড়ির লোকেরা এসে দেখেন, মেয়ের নিথর দেহ নীচে পড়ে আছে। কান দিয়ে রক্ত ঝরছে। চোখের নীচে কালসিটে দাগ ও মুখে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে কালনার বুলবুলিতলা ফাঁড়ির পুলিস এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কালনা মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। সেখান থেকে মৃতদেহ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য রেফার করা হয়। মৃতার ভাই গৌর ধাড়া বলেন, জামাইবাবু দিদিকে খুব মারধর করত। আমরা অনেকবার জামাইবাবুকে মারধর, অশান্তি করতে বারণ করি। জনপ্রতিনিধিদের জানালেও দিদির উপর অত্যাচার কমেনি। রবিবার বেলা ১০টা নাগাদ জামাইবাবু ফোনে জানায় দিদি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। এসে দেখি দিদির মৃতদেহ নীচে পড়ে আছে। দিদির কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। চোখের নীচে কালসিটে। মুখে ক্ষত চিহ্ন ও গলায় দাগ রয়েছে। দিদি গলায় ফাঁস দিয়েছে এমন কোনও প্রমাণ আমরা পাইনি। আমাদের অনুমান, জামাইবাবু দিদিকে মারধরের পর শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। কালনা থানার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বধূর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।



