নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কলকাতায় গিয়ে প্রতারকদের কাছে টাকা দিয়ে এসেছেন বহু নেতা। কিন্তু তাঁদের উপর বাটপাড়ির ঘটনা সামনে আসার পর নেতারা এখন কপাল চাপড়াচ্ছেন। প্রতারক গ্যাংয়ের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য এখনও অধরা রয়েছে। টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন নেতারা। তাদের অনেকেই মোবাইল বন্ধ করে রেখেছে। কারও কারও ফোনে রিং হয়ে গেলেও তারা ধরছে না। বর্ধমানের এক নেতা বলেন, প্রতারক ক্যামাকস্ট্রিটে ডেকে পাঠিয়েছিল। বিশ্বাস অর্জন করার জন্য সে একটি অফিসেও ঢোকে। পদ দেওয়ার জন্য ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল। প্রথমে আড়াই লক্ষ টাকা দিতে বলে। সেটা দিয়েও দিয়েছি। ওই প্রতারক দাবি করে, পুলিস বা অন্যান্য অফিসারদের বদলি করার ক্ষমতাও তার রয়েছে। বেশ কয়েকজন আধিকারিকের কাছেও সে টাকা হাতিয়েছে। দলের আর এক নেতা বলেন, প্রতারকদের একাধিক গ্যাং ছিল। তাদের অনেকে বর্ধমানের একটি নামী হোটেলে ডেরা বেঁধেছিল। তারা কার্যত জামাই আদর পেত। তারা হোটেলে এলেই দামি ব্রান্ডের মদ পৌঁছে দিতে হতো। এছাড়া বিনোদনের জন্য আর যা যা কিছু দরকার সব তাঁরা পৌঁছে দিত। সবকিছু তাদের এজেন্টরাই করত। বর্ধমানের নবাবহাটের দিকে তাদের এক এজেন্ট সক্রিয় ছিল। এছাড়া মন্তেশ্বরের এক নেতা তাদের এজেন্ট হয়ে কাজ করত। প্রতারকরা সব সময় বোঝানোর চেষ্টা করত তাদের রিপোর্টের উপরই পদ নির্ভর করছে। মাঝেমাঝে তাদের মোবাইলে ফোন আসত। কে ফোন করত তা বোঝা যেত না। তবে তারা দাবি করত, শাসক দলের প্রভাবশালীরা তাদের ফোন করছে। নেতাদের ডেকে পাঠানোর আগে প্রতারকরা তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করত। তাঁর কী কী দুর্বলতা রয়েছে? কার কার সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখেন? নেতার সম্পত্তি কেমন রয়েছে তা তাঁরা আগেই জেনে নিত। পরে নেতা হোটেলে হাজির হলে কিছুক্ষণ কথা বলার পরই সেসব তথ্য বলে তারা নিজেদের প্রভাব বোঝাত।
Advertisement
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতায় তিন প্রতারক গ্রেপ্তার হওয়ার পর নেতাদের সতর্ক করা হয়েছে। কাউকে টাকা না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কাউকে কোনও তথ্য দেওয়ার আগে পরিচয়পত্র দেখতে বলা হয়েছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, কোন কোন নেতা প্রতারকদের টাকা দিয়েছে তা জানা হচ্ছে। দলের প্রতি আস্থা বা বিশ্বাস থাকলে কেউ এভাবে প্রতারকদের জালে জড়িয়ে পড়ত না। যাঁরা সংগঠনের কাজ করছে নেতৃত্ব নিশ্চই তাঁদের সম্মান দেবে। এর জন্য কাউকে টাকা দেওয়ার দরকার নেই।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় কয়েকজন বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। তাদের একজনের বিরুদ্ধে পুকুর ভরাট, সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু প্রতারকদের ‘আশীর্বাদ’ তাঁর মাথার উপর থাকায় তিনি কাউকেই পাত্তা দিতেন না। সেই আশীর্বাদ এখন অভিশাপ হয়ে যাওয়ায় তাঁর মতো অনেক নেতার রাতের ঘুম চলে গিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় কয়েকজন বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। তাদের একজনের বিরুদ্ধে পুকুর ভরাট, সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু প্রতারকদের ‘আশীর্বাদ’ তাঁর মাথার উপর থাকায় তিনি কাউকেই পাত্তা দিতেন না। সেই আশীর্বাদ এখন অভিশাপ হয়ে যাওয়ায় তাঁর মতো অনেক নেতার রাতের ঘুম চলে গিয়েছে।



