Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালাজ্বর আক্রান্ত রোগীর সন্ধান জেলায়, পুরনোদের নিয়ে সমীক্ষা

কালাজ্বর আক্রান্ত রোগীর সন্ধান জেলায়, পুরনোদের নিয়ে সমীক্ষা
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কালাজ্বরের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি সমীক্ষায় নেমেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। নদীয়া সহ গোটা রাজ্যেই এই সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। অতীতে যে সমস্ত এলাকায় কালাজ্বর আক্রান্ত রোগীর হদিশ মিলেছিল, মূলত সেখানেই এই সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রামের মানুষদের সঙ্গে কথা বলছেন। বাসিন্দাদের মধ্যে কালাজ্বরের উপসর্গ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি নদীয়া জেলার বেশকিছু ব্লকে কালাজ্বর আক্রান্ত রোগীর হদিশ মিলেছে। ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জেলায় নতুন করে কেউ কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ব্লকে এই রোগের নতুন করে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তাই এই মুহূর্তে কালাজ্বরের সমীক্ষা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে স্বাস্থ্য মহল। 
Advertisement
নদীয়া জেলার সহ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পরাশর পোদ্দার বলেন, ‘কালাজ্বর নিয়ে গ্রামে গ্রামে সমীক্ষা চলছে। নতুন করে কালাজ্বর ছড়িয়ে পড়া আটকানোই আমাদের লক্ষ্য।‌ পাশাপাশি গ্রামের মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।’
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নদীয়া জেলায় মোট ৩৯ জন কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী কোনও ব্লকে কালাজ্বরে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পেলে তাকে দশ বছরের জন্য এনডেমিক ব্লক বলে চিহ্নিত করা হয়। নদীয়া জেলায় মোট এগারোটি এইরকম এনডেমিক ব্লক ছিল। সেই তালিকায় ছিল হরিণঘাটা, রানাঘাট-২, শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর-১, নাকাশিপাড়া, তেহট্ট-১, তেহট্ট-২, করিমপুর-১, করিমপুর-২ ও কালীগঞ্জ এবং হাঁসখালি।  
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্র আরও জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস নাগাদ তেহট্ট-২ ব্লকে এবং সেপ্টেম্বর মাসে হাঁসখালির বগুলাতে এক গৃহবধূ কালাজ্বরের আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের করিমপুর-২ ব্লকের ৩৫ বছরের এক মহিলা এই রোগে আক্রান্ত হন। রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছিল। যার জেরেই তড়িঘড়ি কালাজ্বর রোগ নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠে স্বাস্থ্যদপ্তর। নতুন করে কেউ আক্রান্ত হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য কালাজ্বর রোগীদের জন্য যাবতীয় ওষুধ এবং চিকিৎসার খরচ সরকারের তরফ থেকেই দেওয়া হয়। ‌ 
এ ব্যাপারে নদীয়া জেলার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ (পাবলিক হেলথ অ্যান্ড কমিউনিকেবল ডিজিজ) পৌলোমী ঘোষ বলেন, ‘কালাজ্বরের দুই ধরনের রোগী হয়— ভিএল এবং পিকেডিএল। রোগের জন্য অনেকেই ভালোভাবে কাজকর্ম করতে পারেন না। তার জন্য আর্থিক সাহায্য করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন তাঁরা অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই জন্য তাদের প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হয়। তাই তাঁদের ফুড বাস্কেটও দেওয়া হয়।’
উল্লেখ্য, কালাজ্বর হলে অনিয়মিত জ্বর, ওজন হ্রাস হয় ও যকৃত ফুলে যায়। পাশাপাশি রক্তশূন্যতার সমস্যাও দেখা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে ও সময়মতো চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দু’ বছরের মধ্যে মারাও যেতে পারেন। বালু মাছি দ্বারা এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে।
সম্পর্কিত সংবাদ