Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালিয়াগঞ্জের রাধিকাপুর জগদলায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু

কালিয়াগঞ্জের রাধিকাপুর জগদলায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু
  • ১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ ও রায়গঞ্জ: জমি সংক্রান্ত বিবাদে দু’পক্ষের সংঘর্ষে এক জনের মৃত্যু হল। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন দু’পক্ষের তিন জন। জমির কাগজ দেখতে আসা ভূমি দপ্তরের আধিকারিকদের সামনেই এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কালিয়াগঞ্জের রাধিকাপুর জগদলা গ্রামে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম সরল রায়(৪২)। তিনি কৃষিকাজ করতেন। সংঘর্ষের ঘটনায় জীবনকুমার রায় (২৭) এবং হারাধনকুমার রায় (৪৩)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সমস্তটাই তদন্ত করে দেখছে পুলিস। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে খবর, ১৬শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদ চলছিল। এই বিবাদ মেটাতে শুক্রবার দুপুরে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা ওই গ্রামে যান। সেথানে তাঁরা জমিটির কাগজপত্র দেখতে চান। এরপরই জমির কাগজ দেখানো নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়।  ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হলে দু’পক্ষের চারজন গুরুতর জখম হন। সরল রায় এবং তাঁর দুই ভাই চন্দন রায় ও মন্টু রায় জখম হন। অপরপক্ষের বিষ্ণু রায়ও গুরুতর জখম হন। সবাইকে প্রথমে কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চারজনকেই রায়গঞ্জ মেডিক্যালে স্থানান্তরিত করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে সেখানে সরল রায়ের মৃত্যু হয়। মৃতের ছেলে পার্থ রায় বলেন, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা জমির নথি খতিয়ে দেখতে গেলে অভিযুক্তরা কোনও বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। এরপরই অভিযুক্তরা লাঠি, বাঁশ, ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাবা এবং আমাদের পরিবারের উপর চড়াও হয়। বাবার মাথায় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। 
অন্যদিকে, অপরপক্ষের জখম বিষ্ণু রায় পাল্টা সরল রায়ের পরিবারের বিরুদ্ধে আগে হামলার অভিযোগ করেছেন। তবে সরকারি আধিকারিকদের সামনেই এই ঘটনায় রীতিমতো তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিস পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে।
কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, বিতর্কিত জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছিল। দুই পরিবাদ দাবি করেছিল, এই জমি তাঁদের। শনিবার ধৃতদের রায়গঞ্জ আদালতে পেশ করা হয়। রায়গঞ্জ আদালতের সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার বলেন, ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ