Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালীদৌড় দেখতে ভিড় মালতীপুরে

কালীদৌড় দেখতে ভিড় মালতীপুরে
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, চাঁচল: ঢাকের বাদ্যি, বাজি, পটকার আওয়াজের সঙ্গে রোশনাই। দৌড়ে রয়েছে আম, চনকা, হাট, শ্যামা, হান্টা, বুড়ি ও বাজার কালী। পাশ থেকে কেউ কেউ দিচ্ছেন উলুধ্বনি। সেই মুহূর্ত ধরে রাখতে ক্যামেরা হাতে তৈরি দর্শনার্থীরা। শুক্রবার রাতে রাজ আমলে শুরু হওয়া প্রায় তিনশো বছরের পুরনো প্রথা কালীদৌড় দেখতে মালদহের মালতীপুরে ভিড় জমালেন মহকুমার কয়েক হাজার মানুষ। 
Advertisement
কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, দৌড় প্রতিযোগিতার কথা ভেবে কাঁধে নিয়ে যাওয়া যায় এমন প্রতিমা গড়া হয়। আমকালী বিসর্জনের পর রাত নটা থেকে শুরু হয় অন্যান্য কালী প্রতিমার দৌড়। চলে দুই ঘণ্টা। পরে প্রতিমাগুলিকে বিসর্জনে নিয়ে যাওয়া হয়। দৌড়ের মাঝেই ঢাক বাজিয়ে ও পাটকাঠির আঁটিতে আগুন জ্বালিয়ে বাজি, পটকা পুড়িয়ে গ্রামের গলিপথগুলিতে প্রদক্ষিণ করা হয় সাতবার। মালতীপুর সর্বজনীন দুর্গা মণ্ডপের সামনে সমস্ত প্রতিমা একত্রিত করে এক দেবীর সঙ্গে আরেক দেবীর প্রতিমা সামনাসামনি আনা হয়। 
কথিত রয়েছে, চাঁচলের রাজা শরৎচন্দ্র রায় বাহাদুরের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। রাজা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাতিতে চেপে কালীদৌড় দেখতে হাজির হতেন। প্রথমদিকে রাজার বুড়ি কালী ও প্রজাদের বাজার কালী দিয়েই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। পরে আরও পাঁচটি কমিটি এই দৌড়ে শামিল হয়। জয়ীদের পুরস্কৃত করতেন রাজা। দৌড় প্রথা আজও অটুট। তবে পুরস্কার দেওয়ার রীতি আর নেই। সেই দৌড় দেখতে পুণ্যার্থীদের যাতে সমস্যা না হয়, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তদারকি করেন চাঁচলের এসডিপিও সোমনাথ সাহা ও চাঁচল থানার আইসি পুর্ণেন্দু কুণ্ডু। 
মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, কালী দৌড় অদ্ভূত দৃশ্য। এটা রাজ্যের আর কোথাও হয় না। চাঁচলের সুদীপ্ত ঘোষ বলেন, প্রতিবছর পরিবার নিয়ে এখানে আসি এই কালীদৌড় দেখার জন্য।
সম্পর্কিত সংবাদ