Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালোবাজারির জেরে আকাশছোঁয়া বালি, বিপাকে আবাস উপভোক্তারা

কালোবাজারির জেরে আকাশছোঁয়া বালি, বিপাকে আবাস উপভোক্তারা
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: বালির দামে লাগাম নেই। প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগে চলছে বালির কালোবাজারি। অভিযোগ, সেই কারবারে মদত দিচ্ছে পুলিস, প্রশাসনেরই একাংশ। ফলে কোথাও সাড়ে চার হাজার টাকা, কোথাও এক ট্রাক্টর বালি কিনতে গুনতে হচ্ছে সাত হাজার টাকা। চড়া দামে বালি কিনে আবাস যোজনার বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন উপভোক্তারা। বিষয়টি অবশ্য অজানা নয় পুলিস প্রশাসনের। কিন্তু বালির দামে লাগাম টানতে এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। 
Advertisement
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক অবশ্য বলেন, ‘বালির দাম নিয়ন্ত্রণে আনার সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, পুরুলিয়া জেলাজুড়ে বালির অবৈধ কারবারের রমরমা। ইচ্ছামতো বালির দাম নির্ধারণ করছে ইজাদাররা। তার উপর কোনও নিয়ন্ত্রণই নেই সরকারের। যার ফলে বিপাকে পড়েছেন আবাস উপভোক্তারা। বালি কিনতে গিয়েই বাড়ি তৈরির অর্ধেক টাকা শেষ। বালির কালোবাজারি ও দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী পয়লা মার্চ দুপুর ১২টা থেকে এক ঘণ্টার জন্য রাস্তা অবরোধ কর্মসূচিও নিয়েছে কংগ্রেস। জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাত বলেন, ‘আমরা দেখেছি রেলের প্ল্যাটফর্মে থাকা বিভিন্ন হোটেলের টেন্ডার হয়। যে রেলকে সর্বোচ্চ দাম দিতে পারবে, সে টেন্ডার পাবে। কিন্তু রেল খাবারের যে দাম ঠিক করে দেবে, সেই দামই নিতে হবে। তার থেকে বেশি দাম নিতে পারবে না। বালিঘাটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। কিন্তু সেই নিয়মের তোয়াক্কা করে না প্রশাসন। ঘুরিয়ে আধিকারিকদের একাংশ মদত দিচ্ছে অবৈধ কারবারিদের।’ তাঁর দাবি, ‘বালির কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।’
কীভাবে? সূত্রের খবর, জেলার সমস্ত প্রান্তেই বেআইনি ভাবে বালি মজুত করে রাখা হচ্ছে। সেই মজুত বালি ট্রাক্টরে করে সরবরাহ করছে। সেই বালি যতগুলো থানার উপর দিয়ে যাচ্ছে, বালির দাম তত চড়ছে। মানবাজারে সাড়ে চার হাজার টাকায় বালি মিললেও সেই একই ঘাটের বালি বান্দোয়ানে বিক্রি হচ্ছে সাত হাজারে। তার অবশ্য ভাগ যাচ্ছে নেতাদের কাছেও! অবৈধ বালির কারবার রমরমিয়ে চলছে সাঁতুরি, নিতুড়িয়াতেও। ওই এলাকার দামোদরে এবছর কোনও বৈধ ঘাটের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ব্যবসায়ীরা তার সুযোগ নিয়ে চড়া দামে বালি নিয়ে এসে মুনাফা লুটছে।
এনিয়ে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, এই সরকার যতদিন থাকবে, ততদিন এই করবার চলতেই থাকবে। জেলার ভূমিদপ্তর, পরিবহণ দপ্তর, পুলিস, তৃণমূলের নেতারা সবাই মিলে বালি থেকে মুনাফা খাচ্ছে। যে কারণে সাধারণ মানুষকে চড়া দামে বালি কিনতে হচ্ছে। আবাস প্রাপকদের দাবি, পঞ্চায়েত থেকে বাড়ি তৈরি করতে তাড়া দিচ্ছে। এদিকে, বালির দাম আকাশছোঁয়া। কিনতে গয়ে পাঁচবার ভাবতে হচ্ছে। পুরুলিয়ার তপন মাহাত, হুড়ার বুদ্ধেশ্বর মাহাতদের কথায়, এক কামরার ঘরের বাড়ি তৈরি করতে অন্তত ১৫ ট্রাক্টর বালি লাগবে। সরকার দিচ্ছে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা। সাড়ে চার হাজার টাকা করে বালি কিনলেই তো অর্ধেকের বেশি টাকা খরচ হয়ে যাবে।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ